এই সময়, মেদিনীপুর ও তমলুক: পথ নিরাপত্তা বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। সেখানে পুলিশ সুপারের কাছে এক ছাত্রের অনুরোধ, 'স্কুলে যাওয়ার রাস্তা দ্রুত সারিয়ে দিতে হবে। বেপরোয়া ট্রাকের উৎপাত বন্ধ করতে হবে।' সোমবার সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের শুরুতে পড়ুয়াদের মুখে এমন কথা শুনে তখনই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। প্রশংসা করেন ছাত্রের সাহসিকতার।
এ দিন মেদিনীপুর শহরের এলআইসি মোড়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বর্ণাঢ্য সচেতনতা র্যালি হয়। পুলিশ সুপার বলেন, 'সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে পড়ুয়াদের কী ধারণা, তা জানতে চাই।'
মাইক্রোফোন হাতে নেয় বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের ছাত্র চয়নরাজ। সে জানায়, তাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। স্কুলের পাশে এফসিআই-এর গুদাম। প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক যাতায়াত করে। অনেক চালকই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ সুপারের উদ্দেশে সে বলে, 'ম্যাডাম, বিষয়টা যদি একটু দেখেন।'
তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, 'তুমি সমাজের একজন সচেতন ও কল্যাণকামী মানুষ হয়ে উঠবে। তোমার সাহসকে অভিনন্দন জানাই।' তাকে চকোলেট উপহার দেন তিনি। উপস্থিত পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেন, ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, 'প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।'
অন্য দিকে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পূর্ব মেদিনীপুরে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ থেকে অপ্রয়োজনীয় গার্ডরেল সরানো, একাধিক স্পিড ব্রেকার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার।