• মুখ থেঁতলে, নৃশংস ভাবে গণধর্ষণ-খুন অসমের কিশোরীকে, গ্রেপ্তার ৩ কিশোর
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • অসমের হাইলাখান্দি জেলার ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের পরে হত্যার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের বয়স ১৭ থেকে ১৯-এর মধ্যে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ধৃতদের মধ্যে এক কিশোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল নাবালিকার।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে হাইলাখান্দির আলোইছড়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকেই মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। গোটা দেহে অসংখ্য ক্ষত, থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল মুখ। কিশোরীর গোপানাঙ্গে গেঁথে ছিল লোহার রড। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে কাতলিছড়া থানা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা তখন বাড়ির কাছেই একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। মেয়েটিও সেখানে ছিল। কিন্তু সেখানে এক খুড়তুতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পরে একাই রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সে বাড়ি ফিরে যায়। তার প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বাদে বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজন কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পান।

    মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, একাধিক বার ধর্ষণের পরে গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করে অত্যাচার চালানো হয়েছে। বিকৃত হয়ে গিয়েছিল কিশোরীর চেহারা। পুলিশের এক আধিকারিকও জানান, তদন্ত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে এটা নিশ্চিত মেয়েটিকে পাশবিক নির্যাতনের পরে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষাতেই আঘাতের বীভৎসতা সামনে এসেছে। মৃতার যৌনাঙ্গ একেবারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। গোটা শরীরেই গুরুতর ক্ষত ছিল।

    তদন্তে নেমে রবিবার পাঁচ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পরে সোমবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মেয়েটিকে চিনত এবং তার বাড়ি সম্পর্কে সব কিছু জানত। তাদের মধ্যে যোগাযোগও ছিল। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত চলছে।

    হাইলাখান্দির সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) অমিতাভ সিনহা বলেন, ‘এদের মধ্যে একজনের বয়স সাড়ে ১৭ বছর। কিন্তু ঘটনার নৃশংসতা বিবেচনা করে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছি।’

    হাইলাখান্দির অ্যাডিশনাল এসপি সমীর দর্পণ বড়ুয়া জানান, তিন অভিযুক্তকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(১) ধারা (১৬ বছরের কম বয়সি মেয়ের ধর্ষণ), ১০৩(১) ধারা (হত্যা) এবং পকসো আইনের ৬ ধারায় (গুরুতর পেনিট্রেটিভ যৌন নিপীড়ন) মামলা করা হয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও ধারা যোগ হতে পারে এবং গ্রেপ্তারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকা ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের আর্জি জানিয়েছে কিশোরীর পরিবারও। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)