• জঙ্গি-যোগে নিরাপত্তাহীন রেনেসাঁ, প্রশ্নে ‘আলিরাজ’
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • রূপক মজুমদার, বর্ধমান

    রেনেসাঁ উপনগরীতে বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে আজও শরণাপন্ন হতে হয় সৈয়দ মাজারুল আলি ওরফে ‘আলিদা’র। উপনগরীতে ঢোকার মুখেই তাঁর মুদি দোকান, আর ভিতরে ভাড়ায় দেওয়া আরও একটি দোকান রয়েছে। রেনেসাঁর ভিতরেই জমি কিনে বাড়ি তৈরি করায় তিনি এই উপনগরীর একপ্রকার আবাসিকও বটে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলি দোকানে বসেই ঠিক করে দেন কে ভাড়া নেবেন এবং ভাড়ার পরিমাণ কত হবে। শুধু ভাড়াই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা থাকে।

    জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল প্রায় চার মাস ধরে রেনেসাঁয় ডেরা বেঁধেছিল। আলির মাধ্যমেই এক দিল্লিবাসীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাট হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডলকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্তে সোমবার পর্যন্ত হামিম, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও এসটিএফ। সূত্রের খবর, রেনেসাঁয় বাড়ি ভাড়া নেওয়া আরও দু’জনের সন্ধান মিলেছে, যাঁদের ভাড়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন এই আলি-ই। ইতিমধ্যে বর্ধমান থানা ও এসটিএফ আধিকারিকরা সৈয়দ মাজারুল আলির সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করেছেন।

    জঙ্গি-যোগের ঘটনা সামনে আসতেই দালাল-চক্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে প্রবল ক্ষোভ জমেছে আবাসিকদের মনে। রেনেসাঁ টাউনশিপের বাসিন্দা সুপ্রভাত ঘোষের দাবি, ‘আলি একজন প্রভাবশালী দালাল। শতাধিক লোক ওর মাধ্যমে বাড়ি ভাড়া নিয়েছে। এ ভাবে ওর রোজগার বাড়ছে আর আমাদের নিরাপত্তা কমছে।’ আর এক বাসিন্দা নির্মলা সাহা বলেন, ‘গেটে ঢোকার মুখেই দোকান সাজিয়ে হাসিমুখে বসে থাকেন আলি। সেখান থেকেই ফ্ল্যাট-বাড়ি ভাড়ার কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন।’ বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কার্যত ভাড়া খুঁজে দেওয়ার নামে আবাসিকদের খুঁটিনাটির প্রতি নজর রাখেন আলি।

    জানা গিয়েছে, রেনেসাঁয় ফ্ল্যাট-বাড়ির দালালি করার জন্য তাঁর কাছে কোনও বৈধ কাগজও নেই। তা হলে কী ভাবে চলছে এই ‘একছত্র নিয়ন্ত্রণ’? আলির জবাব, ‘লোকে সাহায্য চায়। আমরা যোগাযোগ করে ভাড়া ঠিক করে দিই বা কারও ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিই। এর জন্য সামান্য একটা টাকা পাই।’ জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তারির ঘটনা প্রসঙ্গে আলির বক্তব্য, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করেছিল। এখনও পর্যন্ত ৮০-৯০ জনের ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এই একটা কেসেই ফেঁসে গেলাম। ওরা যে জঙ্গি-যোগে জড়িত, কীভাবে বুঝব?’

    জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ছত্রছায়ায় এতদিন উপনগরীতে একচ্ছত্র দাপট চালিয়েছেন আলি। এমনকী রেনেসাঁয় কেউ ফ্ল্যাট বা জমি কিনলেও, তা আলিকে জানাতে হতো। অভিযোগ, উন্নয়নের নামে টাকাও তুলতেন তিনি। সূত্রের খবর, আগের সেই প্রভাব ধরে রাখতে সম্প্রতি বিজেপির যুব মোর্চার এক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন আলি।

    এ দিকে, রেনেসাঁর দপ্তরে আবাসিকদের তালিকা পাওয়া গেলেও, ফ্ল্যাটগুলিতে কারা থাকছেন, রাতের অন্ধকারে কারা যাতায়াত করছেন তার কোনও তথ্য নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেনেসাঁর ভিতরে একটি তিনতলা বাড়ির দোতলায় সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে বহিরাগত বহু মানুষের জমায়েত হতো, যার মূলে ছিলেন এই আলি। সেই জমায়েত নিয়েও এখন প্রশ্ন তুলছেন রেনেসাঁবাসী।

  • Link to this news (এই সময়)