এই সময়: এ বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহানগরে যে সব বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে, সেগুলির নির্মাণ সম্পর্কে যে কেউ কলকাতা পুরসভা কিংবা নগরোন্নয়ন দপ্তরে অভিযোগ জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে— সোমবার এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি এও জানিয়েছেন, যে সমস্ত বাড়ি তৈরিতে ছোটখাটো অনিয়ম হয়েছে, সেগুলি জরিমানা দিয়ে ছাড় পেলেও বড় অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক এতটাই বেশি করা হবে, যাতে তা মেটাতে বাড়ির মালিক বা প্রোমোটারের কষ্ট হয়।
তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনা নিয়ে সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অগ্নিমিত্রা ছাড়াও ছিলেন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, বিভাগীয় সচিব-সহ অন্য আধিকারিকরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বাণিজ্যিক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে যদি তার মাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পার্কিংয়ের জায়গা না থাকে, তা হলে সেই বাড়িকে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
তারাতলা বিপর্যয়ের পরে একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল সামগ্রিক ভাবে নির্মাণে অনিয়মের ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য। সেই কমিটির মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
এ দিন নবান্নে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা একটা কাট-অফ ডেট ঠিক করেছি। সেটা এ বছরের ৩১ মার্চ। এর মধ্যে যা বাড়ি হয়েছে, সেগুলি নিয়ে যদি আমাদের কাছে অভিযোগ আসে বা আমাদের নিজেদের যে তদন্ত চলছে, সেখানেও যদি আমরা দেখি কোনও অনিয়ম হয়েছে, সামান্য একটু এদিক-ওদিক বাড়িয়েছেন, সেটা আমরা চেষ্টা করব ঠিক করতে। কিন্তু যদি দেখি যে, দোতলার অনুমতি ছিল, আপনি পাঁচ তলা করে দিয়েছেন, উপরে একটা পেন্টহাউস বানিয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন রকমের সিঁড়ি, এস্কালেটর বসিয়েছেন, তা হলে সেখানে আমরা হিউজ় একটা পেনাল্টি করব। এত বড় একটা পেনাল্টি দেবো যে, আপনাদের খুব কষ্ট হবে সেটা দিতে।’ সূত্রের দাবি, আপাতত কলকাতায় এই কড়া নজরদারি চললেও আগামী দিনে রাজ্যের অন্য পুরসভার ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটতে পারে প্রশাসন।
অগ্নিমিত্রার ব্যাখ্যা, কোনও কোনও প্রোমোটার হয়তো বেআইনি কাজকে টাকা দিয়ে ‘রেগুলারাইজ়’ করার চেষ্টা করবেন। সেই প্রবণতা রুখতেই জরিমানার অঙ্ক এতটা বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘সেই জন্য আমরা এই স্টেপটা নেব। বাণিজ্যিক ভবনের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা আর ব্যক্তিগত বাড়ির ক্ষেত্রেও জরিমানা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, বেআইনি পার্কিংয়ের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়, সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ করা যায়। উদাহরণ দিয়ে অগ্নিমিত্রা জানান, ধরা যাক, এক একটা কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে কর্মী রয়েছেন ২০০ জন। কিন্তু পার্কিংয়ের জন্য কোনও জায়গা নেওয়া হয়নি, এটা আর চলবে না। পার্কিংয়ের জন্য যে জায়গা লাগবে, তার ব্যবস্থা বিল্ডিংয়ের মধ্যেই রাখতে হবে। তা না হলে বিল্ডিংয়ের নকশা পাশ হবে না। পুরমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে নির্মীয়মাণ বাড়ির কাজে অনিয়ম খুঁজে দেখার ভার কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দেওয়া হবে। তারা ছাড়পত্র দিলে তবেই নির্মাণকাজ করা যাবে।