দার্জিলিঙে টি টেস্টিং কোর্স চালু করল Tea Board, কতটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ এই পেশার?
আজ তক | ০৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলার চা শিল্পের মান আরও উন্নত করতে বড় পদক্ষেপ নিল টি বোর্ড। চা শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াংয়ে টি টেস্টিং বা চা-এর স্বাদ নির্ধারণের কোর্স চালু করা হল টি বোর্ড-এর তরফে। সোমবার দার্জিলিং টি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (DTRDC) এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা হয়।
টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারপার্সন সি মুরুগন জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমন দক্ষ কর্মী তৈরি করা হবে, যাঁরা চায়ের গুণমান উন্নত করা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্বাদ যাচাই, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এগ্রিকালচার স্কিল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (NCVET) অনুমোদিত এই কোর্সগুলি তৈরি করা হয়েছে । এগুলি জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (NSQF)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই পাঠ্যক্রম প্রণয়নে বাণিজ্য মন্ত্রক, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক, চা শিল্পের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি একসঙ্গে কাজ করেছে।
এরফলে কী সুবিধা হবে?
টি বোর্ডের লক্ষ্য এই কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ টি টেস্টার এবং টি সোমেলিয়ার তৈরি করা। এর ফলে ভারতীয় চায়ের মানোন্নয়ন, ভ্য়ালু বৃদ্ধি, ব্র্যান্ডিং, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
এই কোর্স কেমন হতে চলেছে?
এই প্রোগ্রামের আওতায় মোট দুটি কোর্স অফার করা হচ্ছে। একটি ৬০ ঘণ্টার কোর্স ও অপরটি ১২০ ঘণ্টার কোর্স। দার্জিলিং টি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে সোমবার ৬০ ঘণ্টার কোর্সটিরই প্রথম ব্যাচটি শুরু হয়েছে। এই কোর্সের মূল ফোকাস রয়েছে চা সম্পর্কে ধারণা, পেশাদার টি টেস্টিংয়ের কৌশল, চা ব্লেন্ডিং এবং শিল্পের নতুন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। মনে করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এই কোর্স গোটা রাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
টি টেস্টিং পেশার ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল?
বিশেষজ্ঞরা বলেন রাজ্যে টি টেস্টিং পেশার ভবিষ্যৎ যথেষ্ট উজ্জ্বল। কারণ, দার্জিলিং, ডুয়ার্স ও অসম বিশ্বের অন্যতম বড় চা উৎপাদন অঞ্চল, আর আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের চায়ের চাহিদাও বাড়ছে। চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেন, দক্ষ টি টেস্টারের সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে কম, ফলে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা রয়েছে। চায়ের গুণমান নির্ধারণ, ব্লেন্ডিং, নিলাম ও রপ্তানিতে টি টেস্টারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। দার্জিলিং চা-এর বিশ্ববাজারে সুখ্যাতি থাকায় বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনও বাড়ছে। ফলে টি বোর্ডের নতুন স্বীকৃত কোর্স চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের চাকরির সুযোগ আরও বাড়বে।