সংসদে পথনাটিকায় ৪৭ হাজার ‘চাঁদা’! রামমন্দিরেই দান করবেন রাহুল-পাপ্পুরা
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সোমবারও অচল সংসদ। ইস্যু, অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামি চুরি। সংসদ চত্বরে বিরোধী ধরনায় শোনা গেল স্লোগান, ‘ভাজপা কা গোরখ ধান্দা/রামমন্দির কা খা গয়া চান্দা।’ আর লোকসভার অন্দরে—‘উও পয়সা কাঁহা গয়া/বিজেপি কা দপ্তর মে।’ প্রতীকী পথনাটিকায় এদিনও সংসদ চত্বরে রাখা টিনের প্রণামি বাক্সে জমা পড়ল টাকা। তবে এদিন আর কাউকে ‘লুট করতে’ দেওয়া হল না। শুক্রবারের মতো প্রণামি চুরির যে নাটক পাপ্পু যাদব করেছিলেন, তেমনটাও নয়। এদিন বরং তিনটি বাক্স খুলে গোনা হল, কত জমা পড়েছে। দেখা গেল, ৫০০, ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে পথনাটিকায় সংগ্রহ হয়েছে মোট ৪৭,১০০ টাকা! এই প্রতীকী প্রণামির ভবিষ্যৎ কী? ‘বিরোধীরা ঠিক করেছে দান করা হবে অযোধ্যার রাম মন্দিরে’—জানালেন উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের (এই কেন্দ্রের মধ্যেই অযোধ্যা) সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ।
প্রণামি চুরি ইস্যুতে আজ, মঙ্গলবারও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলবে। এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা সভা কার্যবিবরণী বৈঠকেও সব দলের সামনে সমাজবাদী পার্টি ধর্মেন্দ্র যাদব দাবি করেন, সংসদের অন্দরে প্রণামি চুরি ইস্যুতে চর্চা করতে হবে। যদিও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ওসব হবে না।’
রামমন্দির কাণ্ডের পাশাপাশি অবশ্য পিছু ছাড়ছে না অমিত শাহকে আক্রমণের ইস্যুও। দিল্লি-পাটনায় ছাত্র-যুব বিক্ষোভে পুলিশের পেলেট গান, একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর দায় নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিতে হবে জবাব। না হলে দিন ইস্তফা। সোমবার লোকসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শনে উঠল স্লোগান—‘অমিত শাহ ইস্তফা দো।’ সংসদ চত্বরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভে শোনা গেল, ‘অমিত শাহ কায়ের (কাপুরুষ) হ্যায়।’
বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে এদিন বারবার লোকসভা মুলতুবি হল। তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠনে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ায় ডিএমকে সঙ্গ ছেড়েছে কংগ্রেসের। কিন্তু সংসদের অন্দরে অমিত শাহ এবং রামমন্দিরের প্রণামি চুরির প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে দক্ষিণের এই দলের সাংসদরা। ফলে বিরোধীদের শক্তি বেড়েছে। চড়েছে প্রতিবাদের পারদ। তার জেরে কোণঠাসা সরকার কাউকে বলতে না দিয়ে হট্টগোলেই পরপর পেশ করল দু’টি বিল—‘দ্য ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট বিল’ এবং ‘দ্য ব্যাংকারস বুকস এভিডেন্স বিল’। আলোচনা ছাড়াই ছ’মিনিটে পাশ হয়ে গেল ‘দ্য সুপ্রিম কোর্ট (নাম্বার অব জাজেস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ও। কলকাতার অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান আইএসআই’কে মোদি সরকার পঙ্গু করতে চায় বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। তাই বিল পেশেই আপত্তির নোটিস দিয়েছিলেন সৌগত রায়, প্রতিমা মণ্ডল। কিন্তু তাঁদের বলতেই দেওয়া হল না। চলতি সপ্তাহেই আইএসআই বিলটি পাশ করাবে সরকার।