• কোচবিহারের যাত্রাপুরে তোর্সায় দেখা মিলল ডলফিনের
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • রাজীব বর্মন, দিনহাটা: কোচবিহারের তোর্সা নদীতে দেখা মিলল ডলফিনের। রাজারহাট-টাকাগছ গ্রাম পঞ্চায়েতের যাত্রাপুরে তোর্সায় ডলফিন দেখতে পাওয়ার খবর মিলতেই তা চাক্ষুষ করতে নদীর ধারে ভিড় জমাচ্ছে উৎসাহী মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সেই ডলফিনকে নদীর জলে মাঝেমধ্যেই ভেসে উঠতে দেখেছেন। 

    স্থানীয়দের দাবি, একসময় তোর্সা নদীর বিভিন্ন অংশে নিয়মিত ডলফিন দেখা যেত। কিন্তু নদীদূষণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। তবে বর্ষাকালে নদীতে জল বাড়লে যাত্রাপুর এলাকায় প্রায় প্রতিবছরই ডলফিনের দেখা মেলে। জল কমে গেলে তারা আবার মূল আবাসস্থল বাংলাদেশের দিকে ফিরে যায়। 

    কোচবিহারের অনেক প্রবীণ নাগরিকদের কথায়, ৩০-৪০ বছর আগে প্রতিদিন শুশুক দেখা যেত তোর্সায়। নদীতে দূষণ বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের সচরাচর দেখা মেলে না। যাত্রাপুরে তোর্সায় ডলফিন দেখতে পাওয়ার খবর মিলতেই বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। জানানো হচ্ছে, ডলফিন বা স্থানীয় ভাষায় শুশুক একটি অত্যন্ত শান্ত ও নিরীহ জলজ প্রাণী। এদের বিরক্ত করা, হত্যা করা বা পাচারের চেষ্টা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে থাকতে দিন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নদীর ধারে বনদপ্তর সচেতনতামূলক বোর্ডও লাগিয়ে দিয়েছে। 

    এলাকার বাসিন্দা ঝুলন রায় বলেন, গত সপ্তাহেই দেখেছি নদীর জলের উপরে একটি ডালফিনকে লাফ দিতে। মনে হচ্ছে বেশ কয়েকটা একসঙ্গে আছে। প্রসঙ্গত, কোচবিহারে তোর্সা ছাড়াও কালজানি, ঘরঘড়িয়া নদীতে ডলফিন তথা শুশুকের দেখা মেলে। তাছাড়া তুফানগঞ্জের বালাভূতে তোর্সা, কালজানি, গদাধর, রায়ডাক-১ ও ঘরঘড়িয়া নদী এসে মিলেছে। অন্যান্য জায়গায় নদীতে বছরের অন্য সময় জল অনেকটা কম থাকলেও বালাভূতের ওই নদীতে সারাবছরই জল থাকে। ফলে এই পাঁচটি নদীর মিলন স্থলেও দেখা মেলে ডলফিনের। 

    পরিবেশপ্রেমী একটি সংগঠনের সদস্য মৃন্ময় সরকার বলেন, ডলফিনের উপস্থিতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বনদপ্তরের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে একটি সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে স্থানীয় মানুষকে ডলফিন সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে দু’টি বড়ো ৪-৫টি ছোটো ডলফিন রয়েছে। 

    বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, তোর্সায় ওই অঞ্চলে শুশুক দেখা গিয়েছে। কেউ যাতে তাদের কোনো সমস্যা না করে সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)