• তিন মাসে উত্তরবঙ্গে ৫০০টির বেশি লরি আটক, কর আদায় ৪৬ কোটি
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জিএসটি ফাঁকি দিয়ে চলাচল করছে পণ্যবোঝাই লরি! তিন মাসে ৫০০টিরও বেশি পণ্যবোঝাই লরি আটক করে এমন তথ্য পেয়েছে বাণিজ্য কর বিভাগের গোয়েন্দারা। তাদের রিপোর্ট অনুসারে, পণ্যবোঝাই লরিগুলি বাংলা, বিহার ও অসমের মধ্যে চলাচল করছে। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব মার খাচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অস্তিত্বহীন একাধিক সংস্থার হদিশ পেয়েছে। অভিযোগ, অসাধু কিছু ব্যবসায়ী এমন কারবারের সঙ্গে জড়িত। এমন রিপোর্ট মেলার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ধরপাকড় অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।

    অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ফাঁকি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাস্তায় নেমে পণ্য বোঝাই লরির নথি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করার নির্দেশ বাণিজ্য কর বিভাগের আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্যের সীমান্তবর্তী প্রান্তগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গ অন্যতম। এই অঞ্চল আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত বেষ্টিত। এখানকার পাশেই প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, অসম ও সিকিম। এরবাইরে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এমন ভৌগলিক অবস্থানের জেরেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে কর ফাঁকি দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে পণ্যবোঝাই লরি।

    বাণিজ্য কর বিভাগ সূত্রের খবর, বিহার ও অসম থেকে কাপড়, প্লাস্টিক, লোহার সরঞ্জাম বোঝাই লরি বাংলায় নিয়ে আসা হয়। কিংবা বাংলা থেকে ফল, সবজি, বিস্কুট, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠানো হয় বিহার ও অসমে। মূলত শিলিগুড়িকে করিডোর করে সেই লরিগুলি চলাচল করছে। যার একাংশ জিএসটি ফাঁকি দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে রাজ্য সরকারের লোকসান হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক অফিসার জানান, শিলিগুড়িতে স্পেশাল কমিশনারের অফিস। যার অধীনে তিনটি ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (বিআই) রয়েছে। সেগুলি হল বিআই (সদর), বিআই রায়গঞ্জ ও বিআই আলিপুরদুয়ার।

    প্রশাসন সূত্রের খবর, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে বিহার ও অসম সীমানা সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করা হয় ৫৩২টি পণ্যবোঝাই লরি। যারমধ্যে বিআই (সদর) ২৩৯, আলিপুরদুয়ার ১৩৬ এবং রায়গঞ্জ ১৫৭টি লরি আটক করে। জিএসটি সংক্রান্ত উপযুক্ত নথি না মেলায় সেগুলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যারমধ্যে তদন্ত চলছে ৩২৯টি মামলার। এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট লরিগুলি থেকে কর আদায়ের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। এর বাইরে আটটি জাল সংস্থার হদিশ মিলেছে। অভিযোগ, নকল রেজিস্টার ট্যাক্স প্রদানের নথি বানিয়ে সরকারের সুবিধা ভোগ করেছে ওই ভুয়ো সংস্থাগুলি।
  • Link to this news (বর্তমান)