নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ম্যানেজারের ডায়েরির পাতাতেই লুকিয়ে রয়েছে বীরভূমের মাফিয়া সাম্রাজ্যের ‘বিস্ফোরক’ তথ্য! পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলের বেআইনি সিন্ডিকেট থেকে কোন কোন সরকারি শীর্ষকর্তা কত টাকা ‘প্রসাদ’ পেতেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব লেখা রয়েছে ওই ডায়েরিতে। সূত্রের খবর, নাম ও পদমর্যাদা ধরে টাকার অঙ্ক লেখা আছে। চেয়ারের ওজন যত বেশি, তাঁর খাম ততটাই মোটা। নিচুতলার কর্মীদের জন্য বরাদ্দ ছিল হাজার, আর উপরতলার কর্তাদের জন্য লক্ষ। মাসের নির্দিষ্ট দিনে কালো গাড়িতে করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় তা পৌঁছে দেওয়া হত। আধিকারিকরা বদলি হয়ে গেলেও লেনদেন থামত না। নতুন যিনি আসতেন তাঁর নামেই পৌঁছে যেত খাম।
টুলু মণ্ডলের পাথর সিন্ডিকেটের ‘ম্যানেজ মাস্টার’ সীতেশ প্রামাণিকের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এই ডায়েরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ৫০কোটি টাকার সোনা ও নগদ উদ্ধারের পর থেকেই টুলু ঘনিষ্ঠদের জালে তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। টুলুর একের পর কর্মচারী থেকে শুরু করে তার ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁর দাদা মসির মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই সূত্রেই মুর্শিদাবাদের সালার থানার বাসিন্দা সীতেশ পুলিশের নজরে আসে। গত ৩১জুলাই সীতেশকে নোটিস পাঠিয়ে তলব করে দফায় দফায় জেরা করা হয়। তারপর রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘জাল ডিসিআর থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় হত সেই টাকার একটা অংশ সরকারি আধিকারিকদের কাছে যেত। অভিযুক্ত সীতেশের নিজের হাতে লেখা একটা ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে উনি বিভিন্ন সরকারি অফিসারদের টাকা বরাদ্দ করতেন।’ সোমবার জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ বলেন, ‘মিনার ও সীতেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিয়ে টুলুর একাধিক অফিস ও গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে জাল ডিসিআর ছাপার মেশিন থেকে নানাবিধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকে বলছেন, সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটের এই কারবার প্রশাসনের কর্তাদের মদত ছাড়া অসম্ভব। ইতিমধ্যেই ডায়েরির সূত্র ধরে সুবিধাভোগী পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের নামের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। ফলে সিউড়ি থেকে নবান্ন, টুলুর ‘প্রসাদ’ খাওয়া কর্তাদের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে।