নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য ঘোষণাই সার, শিল্পাঞ্চলে বিজেপির লাগামছাড়া তোলাবাজি অব্যাহত। এবার রাস্তায় বালির গাড়ি দাঁড় করিয়ে তোলাবাজি করার অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান। তারপরই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। গ্রেপ্তার হন জামুড়িয়ার বিজেপি কর্মী রাকেশ মাজি।
ঘটনার সূত্রপাত্র রবিবার রাতের একটি ভাইরাল ভিডিও। সেখানে দেখা এই লরি চালক ভিডিও করছিলেন। দেখা যায়, বালি বোঝাই লরি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে কয়েকজন গাড়ি আটকে টাকা দাবি করে। কারও পরণে গেরুয়া পাঞ্জাবী, কারও গলায় গেরুয়া উত্তরীয়। তাঁদের বলতে শোনা যায়, মদনতোড় এলাকায় আয়ের কোন উৎস নেই। তাই গাড়ি পিছু টাকা আদায় হয়। আগে ৫০০ টাকা দিতে হত। এখন স্টকের বালি যাচ্ছি। আণ্ডারলোড বালি চালাতে হচ্ছে তাই দু’শো টাকা নেওয়া হচ্ছে। চালক টাকা দিতে না চাওয়ায় তোলাবাজরা তাঁদের কোন ‘বস’কে ফোন করে। তারপর একশো টাকা দাবি করা হয়।
লরি চালক দাবি করেন, জামুড়িয়ার মদনতোড়ের এই ঘটনা। নিমেশেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। সমালোচনার ঝড় ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে পুলিশও। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এরপরই মদনতোড়ের বিজেপি কর্মী রাকেশ মাজিকে গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছে, চুরলিয়া চরনপুর সংযোগকারি রাস্তার উপর মদনতোড় আমবাগান এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে গাড়ি থেকে তোলাবাজি করা হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়েই চুরুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বালির গাড়ি গুলি বের হয়ে। বিপুল সংখ্যা গাড়ি যাতায়াত করার সুযোগে বিপুল তোলাবাজি শুরু হয়। অভিযোগ জেলা বিজেপির এক নেতার মদতেই এই তোলাবাজি চলছে। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট যেই তোলাবাজি করুক পুলিশ রেয়াত করবে না। এদিনও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে উনি বিজেপি কোন কর্মী নন। ৪ মে পর বিজেপি করা কর্মী। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, তোলাবাজির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামুড়িয়ায় তোলাবাজির অভিযোগে বিজেপি কার্যকর্তা গ্রেপ্তার।-নিজস্ব চিত্র