• বিএমএসের রাজ্য নেতার উপর হামলা নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক, বহিষ্কৃত হচ্ছেন ২ জেলা পদাধিকারী
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কোলাঘাটে ভারতীয় মজদুর সংঘের(বিএমএস) রাজ্য নেতার উপর হামলার ঘটনার পর আজ, মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে সংগঠনের জেলা কমিটি। কঁথিতে দীঘা বাইপাস সংলগ্ন একটি হলে বিকাল ৩টায় ওই মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে অশান্তি এড়াতে সরাসরি সংঘ নেতা গৌরাঙ্গ খাঁড়াকে উপস্থিত করানো হচ্ছে। সংঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মহামন্ত্রী দেবাশিস ভট্টাচার্যকে কোলাঘাটে বেদম মারধর ও অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতেই কাঁথিতে মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে বিএমএসের জেলা সহ সভাপতি চন্দন প্রামাণিক ও জেলার এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য মৃত্যুঞ্জয় ঘড়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংঘের শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গিয়েছে। দু’জনকে ইউনিয়ন থেকে বিতাড়িত করার সুপারিশ করা হবে। সেটা অনুমোদনের জন্য রাজ্যে পাঠানো হবে। এছাড়া, জেলাশাসকের মাধ্যমে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পাঠাতে চলেছে বিএমএস।রবিবার কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্যাম্পাসের ভিতর বিএমএস অনুমোদিত স্থায়ী কর্মী ইউনিয়নের রক্তদান শিবির ও নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন ছিল। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন সংঘের শ্রমিক ইউনিয়ন বিএমএসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্য। ওই কর্মসূচি সেরে বেরিয়ে আসার মুহূর্তে দেবাশিসবাবুকে বেদম পেটানো হয়। অন্য গাড়িতে জোর করে তুলে অপহরণের চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। দেবাশিসবাবুকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিএমএসের জেলা সভাপতি নিশিকান্ত সাউ ‌এবং সম্পাদক শুভম বেরা। জখম অবস্থায় দেবাশিসবাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। ওই ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিএমএসের জেলা সহ সভাপতি হলদিয়ার চন্দন প্রামাণিক ও জেলা এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য মৃত্যুঞ্জয় ঘড়ার বিরুদ্ধে।  কোলাঘাট থানার পুলিশ তাঁদের আটক করেছিল। অনেক রাতে দু’জনকে থানা থেকে ছাড়া হয়। 

    আসলে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঠিকাশ্রমিক ইউনিয়নের দখলদারি নিয়ে বিএমএসের দু঩টি গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা শুরু হয়েছে। রাজ্য সাধারতণ সম্পাদক দেবাশিসবাবুকে চ্যালেঞ্জ করে জেলায় বিএমএস নেতাদের একটা অংশ সমান্তরাল সংগঠন পরিচালনা করছেন। এই নিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। দু’পক্ষ কোলাঘাটে ইউনিয়ন চালু করেছে। আছর এর থেকেই রেষারেষি শুরু হয়েছে।

    বিএমএসের জেলা সভাপতি নিশিকান্ত সাউ বলেন, রবিবার কোলাঘাটের ঘটনা অনভিপ্রেত এবং দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের সংগঠনের মহামন্ত্রী তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। সংগঠনের দুই নেতা চন্দন প্রামাণিক ও মৃত্যুঞ্জয় ঘড়া তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুতর। মঙ্গলবার আমরা কাঁথিতে জেলা কমিটির মিটিংয়ে বসছি। সেখানে যাতে নতুন করে মারামারি না হয় সেজন্য সংঘ নেতা গৌরাঙ্গ খাঁড়া উপস্থিত থাকবেন। রাজ্য নেতার উপন হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া দু’জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেটি অনুমোদনের জন্য রাজ্যে পাঠানো হবে। পাশাপাশি জেলাশাসকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এনিয়ে রিপোর্ট যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)