পড়াশোনায় ব্যস্ত, শান্ত স্বভাবের আদিত্যর জঙ্গিযোগ? স্তম্ভিত পরিবার ও প্রতিবেশীরা
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পড়াশোনা, কলেজ আর মোবাইলে গেম খেলাতেই যার দিন কাটত, সেই বাড়ির ছেলেটা কীভাবে জঙ্গিযোগের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল, তার উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না পরিবার। শনিবার রাতে বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে ২২ বছরের আদিত্য সিং ওরফে ভিকিকে গ্রেপ্তার করার পর কার্যত ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা বেবি সিং। মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি। প্রতিবেশীদের কাছেও আদিত্য ছিল শান্ত, স্বল্পভাষী ও ভদ্র ছেলে।
বেলিলিয়াস রোডে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (ডিডি) অফিসের উলটো দিকের সরু গলিতে একটি চারতলা আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাটে থাকে আদিত্যর পরিবার। ২৬/৩১ বেলিলিয়াস রোডের ওই বাড়িতে বাবা, মা, ছোটো বোন ও দিদার সঙ্গে থাকত সে। শিয়ালদহ উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। আদিত্যর বাবা বেদপ্রকাশ সিং পোস্তার একটি মশলার কারখানায় কাজ করেন। গত ২২ বছর ধরে ওই এলাকাতেই বসবাস পরিবারটির। সোমবার সকাল থেকেই ফ্ল্যাটের সামনে কৌতূহলী বাসিন্দাদের ভিড়। ছেলের গ্রেপ্তারির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। তাঁর দাবি, ছেলে সব সময় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। অবসরে ল্যাপটপ বা মোবাইলে গেম খেলত। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা কখনও চোখে পড়েনি। মা বলেন, ‘হামিম বলে কোনো নাম কখনও শুনিনি ছেলের মুখে।’ একই দাবি দিদা মীরা সিংয়েরও।
প্রতিবেশীদের অধিকাংশই জানান, আদিত্য খুব একটা মিশুকে ছিল না। তবে এলাকায় খারাপ ব্যবহার বা উঁচু গলায় কথা বলতেও কেউ দেখেননি তাঁকে। তবে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের দাবি, মাঝেমধ্যে গভীর রাতে পাড়ার মোড়ে দু’-একজন অপরিচিত যুবকের সঙ্গে আদিত্যকে কথা বলতে দেখা যেত। যদিও তখন তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়ত কলেজের বন্ধু! ছোটোবেলার বন্ধু প্রকাশ সোনকরের কথায়, ‘ছোট থেকে একসঙ্গে বড়ো হয়েছি। কলেজে ভরতির পর যোগাযোগ কিছুটা কমলেও কখনও ওর আচরণে অস্বাভাবিক কিছু দেখিনি।’