নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ১২৫ দিনের কাজ (ভিবি জি রামজি) থেকে আবাস যোজনা, বার্ধক্যভাতা থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার—বিভিন্ন সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের পরিষেবা পেতে গিয়ে জেরবার মানুষ। পঞ্চায়েত অফিসে বারবার গিয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। গোটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এখন এই ভোগান্তির অভিযোগ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। অভিযোগ, জেলার প্রায় ১৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান বেপাত্তা। ফলে পঞ্চায়েতের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্মও মুখ থুবড়ে পড়েছে। বারাসত থেকে বনগাঁ, বাদুড়িয়া থেকে বারাকপুর—জেলার একের পর এক ব্লকে একই ছবি! পঞ্চায়েত অফিস খোলা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ। ফলে ফাইলের পাহাড় জমছে। প্রকল্পের অনুমোদন আটকে যাচ্ছে। উন্নয়নমূলক কাজেও পড়ছে তার প্রভাব। সবথেকে বেশি সমস্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভিবি জি রামজি’ অর্থাৎ ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প। নতুন কাজ শুরু, মাস্টাররোল অনুমোদন, বিল পাশসহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বন্ধ। পাশাপাশি, আবাস যোজনা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, বিভিন্ন শংসাপত্র এবং পঞ্চায়েতের মাধ্যমে পাওয়া অন্যান্য সরকারি পরিষেবাতেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন পঞ্চায়েত অফিসে ঘুরেও কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
২৬-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার সিংহভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ এখনও তৃণমূলের দখলে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বহু প্রধান ও উপপ্রধান এলাকা ছেড়ে ‘সেফ হাউস’-এ রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তারই প্রভাব পড়ছে প্রশাসনিক কাজে।
দত্তপুকুরের বাসিন্দা সুভাষ দত্তর কথায়, ‘রাজনৈতিক লড়াই চলতেই পারে। কিন্তু তার খেসারত কেন সাধারণ মানুষ দেবে? পঞ্চায়েতে গিয়েও দিনের পর দিন কাজ হচ্ছে না। সবকিছুই আটকে রয়েছে। দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা হোক।’ হাসনাবাদের সীমা পাল বলছেন, ‘সরকারে যে-ই থাকুক, মানুষের পরিষেবা বন্ধ থাকতে পারে না। জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় ফিরে এসে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসন ও সব পক্ষের উচিত দ্রুত এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে পঞ্চায়েতের কাজ আগের মতো শুরু হয়। মানুষের ভোগান্তির দ্রুত অবসান হোক।’ এই অবস্থায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একটাই দাবি উঠছে—রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঊর্ধ্বে উঠে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম দ্রুত শুরু করতে উদ্যোগী হোক ‘ডবল ইঞ্জিন’ বিজেপি সরকার। কারণ প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।