• ‘ছাত্র আন্দোলন আমাদের বোকা বানিয়েছে’, তোপ তসলিমার, পালটা জবাব দিলেন ‘ককরোচ’ অভিজিৎ
    প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • লেখিকা তসলিমা নাসরিন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাব দিলেন সিজেপি-র মুখ্য সংগঠক অভিজিৎ দীপকে। “ছাত্ররা কোথাও জমায়েত হলেই বা আন্দোলন করলেই যে সব সময় খুব ভালো পরিণতি হয়, তা নয়”, ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছিলেন তসলিমা। যা নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিজিৎ দীপকে।

    কলকাতায় বসে তসলিমা জানান, সিজেপি আন্দোলনের একটি ক্লিপ দেখে তাঁর ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। তসলিমার ভাষ্য, “বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন আমাদের বোকা বানিয়েছে। কারণ আমরা ভেবেছিলাম ছাত্ররা কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়। শেখ হাসিনাও তাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন হল। পরে দেখলাম এর পেছনে উগ্রপন্থীরা ছিল। এর ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।” এই নিয়েই অভিজিৎ বলেন, “আমরা আলাদা।”

    সোমবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরের তুলনা করা হচ্ছে শুধু আমাদের বদনাম করার জন্য। আমরা একরকম না। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে। শিগগিরই সংগঠনের পরিসর বাড়ানো হবে।” অবিলম্বে নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে ফের বড়সড় আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দীপকে।

    প্রসঙ্গত, ‘ককরোচ’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে বিদেশি মদত, অন্দরের ভিন্ন রাজনৈতিক উসকানির বহু অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁর পারিবারিক সচ্ছলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাবার সামান্য বেতনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় হল কোথা থেকে, তথ্যের অধিকারী আইনে (RTI) তা নিয়ে মামলাও হয়েছে। সেসব প্রশ্নেও সোজাসাপটা জবাব দিয়েছেন দীপকে। জানিয়েছেন, বাবার টাকায় নয়, মেধার জোরে বৃত্তি পেয়ে তবেই আমেরিকায় পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। কেউ চাইলে তাঁর সেই সার্টিফিকেটও দেখাতে রাজি ‘ককরোচ’ অভিজিৎ। তাই তসলিমা যে অভিযোগ করেছেন, সেটা মানতে নারাজ তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)