এক নেতা বসে সোফায়। মাটিতে বসে দুই যুবক। নেতার পদযুগল তুলে নিয়ে তাঁরা রাখলেন একটি থালায়। তারপর ভক্তিভরে তা দুধ ঢেলে ধুয়ে দিলেন। ফুলও ছুড়লেন, কিছুটা পায়ে, কিছুটা গায়ে। অর্পণ করলেন ফলমূলও। নেতার অবশ্য সেদিকে লক্ষ্য নেই। তিনি একমনে মোবাইল ফোন ঘাঁটতেই ব্যস্ত। নিচে বসা দু’জনের একজন এর পর উঠে দাঁড়ালেন। নেতার কপালে তিলক কেটে দিলেন। প্রণামও করলেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল। যা জন্ম দিয়েছে প্রবল বিতর্কের।
ফুটেজে যাঁকে দেখা গিয়েছে, তিনি মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। নাম নানা পাটোলে। গুরু পূর্ণিমার দিন তাঁর পা ধুয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। গেরুয়া শিবির ইতিমধ্যেই সমালোচনায় মুখর হয়েছে এই নিয়ে। পাটোলেকে কটাক্ষ করে বলেছে, “এটাই তো কংগ্রেসের সংস্কৃতি!” এদিকে, বিতর্কের মুখে পড়ে নেতার জবাব, “যারা পদসেবা করেছিল, তারা আমার পরিবারেরই কনিষ্ঠ সদস্য। সেদিন গুরুপুজো ছিল। ওরা আমায় বলল, আমায় গুরু বলে মানে। তাই শ্রদ্ধা জানাতে চাই।” পাটোলের দাবি, তিনি কাউকে চরণসেবা করতে বাধ্য করেননি বা বলেননি। যারা করেছে, তারা শ্রদ্ধা জানাতে করেছে।
প্রসঙ্গত, নানা পাটোলে ইতিপূর্বে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রধান পদে ছিলেন। মহা-বিধানসভায় স্পিকারের দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর এহেন ‘কীর্তি’ নিয়ে তোপ দেগেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে। ‘কংগ্রেসের কালচার’কে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচারই ডেকে নিয়ে আসে। পালটা পাটোলের প্রতিক্রিয়া, “সংস্কৃতি নিয়ে বিজেপির কিছু না বলাই ভালো। যারা মন্দিরের প্রণামীর টাকা চুরি করে, আমরা তাদের থেকে পরামর্শ নেব না।”