রাজ্যের সব বড়ো পুরসভায় খরচ বাড়ছে বিল্ডিং প্ল্যানের
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বাড়তে চলেছে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের খরচ। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই বোঝা চাপবে সাধারণ মানুষের উপর। কারণ, এরপর থেকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি এজেন্সি বা বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রত্যেকটি প্ল্যানের ক্ষেত্রেই এই বিশেষজ্ঞ সংস্থা খতিয়ে দেখবে। এখানেই শেষ নয়, প্রতিটি স্তরের নির্মাণকাজও স্ক্যানারে থাকবে তাদের। তারপর মিলবে পরবর্তী ধাপের অনুমোদন। অর্থাৎ, সবুজ সংকেত পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সার্টিফিকেশনের উপরই। এবং এই থার্ড পার্টি ইনস্পেকশনের যাবতীয় খরচ বহন করতে হবে বিল্ডিং প্ল্যানের আবেদনকারীকে। সেক্ষেত্রে যত তলা বাড়ি হবে, সেই অনুযায়ী বিল্ডিং প্ল্যান পাশের সময়েই ইনস্পেকশন বাবদ খরচ মিটিয়ে দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই বিল্ডিং প্ল্যান বাবদ খরচ অনেকটাই বাড়বে।
তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাড়ি বিপর্যয় প্রাণ কেড়েছিল ১৭ জনের। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না নবান্ন। তার উপায় খুঁজতে গিয়েই বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়েছে। এমনিতেই যাচাই পর্ব চলায় ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহুতল নির্মাণে স্থগিতাদেশ জারি রেখেছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নির্মাণ সক্রান্ত ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ছিলেন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও। এই বৈঠকেই থার্ড পার্টি এজেন্সিকে কাজে লাগানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। কিন্তু, পুর আধিকারিকরাই তো ইনস্পেকশনের দায়িত্বে থাকেন। সে ক্ষেত্রে কেন প্রয়োজন পড়ছে এই থার্ড পার্টি যাচাইয়ের? মন্ত্রীর কথায়, কোন আধিকারিকের গাফিলতিতে একটি ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমরা সহজেই চিহ্নিত করতেই পারি। কিন্তু, তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য দায়বদ্ধ করার ক্ষেত্রে আইনে তেমন শক্তপোক্ত বিধান নেই। থার্ড পার্টি এজেন্সিকে কাজে লাগালে দায়বদ্ধতা বাড়বে। কিন্তু কত টাকা, বা বর্তমান বিল্ডিং প্ল্যান ফি-এর কত শতাংশ বৃদ্ধি হবে? এবিষয়ে এখনও রাজ্যের তরফে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই খরচ রাজ্য নিজের ঘাড়ে রাখবে না। সরকারের যুক্তি, রাজ্য ফি বাড়াচ্ছে—সেভাবে বিষয়টি দেখলে চলবে না। এটা করা হচ্ছে নির্মাণ কর্মী থেকে ভবিষ্যতে যাঁরা সেখানে বসবাস করবেন, তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই। ফলে সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই নির্মাণকারী সংস্থা বা ব্যক্তিকে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
অন্যদিকে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি বছরের ৩১ মার্চকে কাট-অফ-ডেট হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। তার পরবর্তী সমস্ত বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে ফাইন নেওয়ার পথে হাঁটছে রাজ্য। এবিষয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ‘আমরা বেআইনি নির্মাণের জন্য এমন হারে ফাইন নেব, যাতে কেউ অবৈধভাবে নির্মাণ কাজের সাহস না পায়।’