নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকার বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি তোলাবাজির অসুখ। পালাবদলের প্রেক্ষাপটে ‘দলবদলু’ ছাড়া বিজেপির একাংশের মধ্যেও এই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শনিবার এই ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার তোপ দেগেছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর এবার তোলাবাজির বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় মুখ খুললেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সাফ কথা, ‘দলের কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ এলে তাড়িয়ে দেব।’ এ ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘সবাইকে কি আমরা ডিটারজেন্ট আর ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে এনেছি? তা তো নয়! সেও রক্তে মাংসের মানুষ। আজ সরকারে এসে অনেকে ভাবছে, তোলাবাজিটাই রোজগারের মাধ্যম। তাঁদের বলব, মনে রাখবেন এটা ভারতীয় জনতা পার্টি। এখানে মুখে এক, আর কাজে আর এক হয় না। এবিষয়ে আমাদের রাজ্য সভাপতি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এমন ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। আমারও তাই মত। তৃণমূলের কালচার বন্ধ হবেই।’
তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত বিজেপির বেনোজল চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে সোমবারই জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘কিছু ক্ষেত্রে দলের নীচুতলায় বিচ্যুতি আছে। কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করছেন। তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিজেপি পার্টি এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করবে।’ সেই রেশ ছিল অগ্নিমিত্রার হুঁশিয়ারিতেও। পালাবদলের পর একদিকে পূর্বতন সরকারের একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে শুভেন্দু প্রশাসন। এদিনই দুর্নীতি দমন শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে তাবড় আইপিএস অফিসারকে। তার মধ্যে ‘এক শ্রেণির’ বিজেপি নেতা-কর্মীর তোলাবাজিতে ‘হাত পাকানো’য় সমালোচনার অভিমুখ ঘুরে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ইস্যুতে পদ্ম শিবিরের ভূমিকা কী হবে? শুধু বাসে-ট্রেনে আলোচনা নয়, প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে মন্ত্রী-বিধায়কদেরও। সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এমনই প্রশ্নের মুখোমুখি হন অগ্নিমিত্রা। আগেও অবশ্য তোলাবাজি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। গত সপ্তাহে আসানসোলে সাফ বলেছিলেন, সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না। তবে সোমবার আরও এক ধাপ এগিয়ে দলের রাজ্য সভাপতির সুরে সর মেলালেন তিনি। তোলাবাজির অভিযোগ আসায় ইতিমধ্যে তাঁর দলের দু’-তিনজনকে সাসপেন্ড করার বিষয়টি মনে করিয়ে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে একটা কথা বলব, আর ভিতরে আন্ডার দি টেবিল বোঝাপড়া করে বেরিয়ে যাব... সেটা চলবে না। ৭০ শতাংশ টাকা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে পাঠিয়ে দেবে, আর বাকি তুমি রাখবে... এই ডিলিং আগের সরকারের মতো আমরা করি না।’ একইসঙ্গে সিন্ডিকেট, চোলাই, তোলাবাজির বিরুদ্ধে খবর দিতে রাজ্য সরকারের সদ্য চালু করা টোল ফ্রি নম্বরেও ফোন করারও আরজিও জানিয়েছেন মন্ত্রী।