• ‘দাদা হেলমেটটা দেবেন? না হলে তেল দিচ্ছে না’, একাধিক পেট্রল পাম্পে শুরু কড়াকড়ি
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ট্যাঙ্কে তেল ভরার পর বাইকের স্টার্ট বাটনে হাত দিয়েছেন শুভ্রজিৎ। সে সময় ছুটে এলেন এক যুবক। তাঁর অনুরোধ, ‘দাদা হেলমেটটা একবার দেবেন? না হলে তেল দিচ্ছে না।’ স্টার্ট না দিয়ে নিজের হেলমেট খুলে শুভ্রজিৎ এগিয়ে দিলেন যুবককে। তিনি সেটি পরে নিলেন। পেট্রল ভরলেন। মিনিটখানেক পর ফেরত দিলেন হেলমেট। পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে বারাসতের একাধিক পেট্রল পাম্পে এই দৃশ্য চোখে পড়েছে।

    বারাসতের হেলাবটতলা লাগোয়া একটি পাম্পে আবার অন্য ছবি। স্কুটার থামানোর পর পাম্প কর্মী বললেন, ‘হেলমেট কোথায়?’ চালক সিট তুলে টুলবক্স খুলে দেখালেন ভিতরে রাখা রয়েছে হেলমেট। কিন্তু তাতে নিয়ম তো আর বদলায় না। পাম্প কর্মী বলেন, ‘সঙ্গে থাকলে হবে না। মাথায় পরতে হবে। তবেই তেল কিনতে পারবেন।’ পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে প্রশাসনের নির্দেশে বারাসতের বিভিন্ন পাম্পে হেলমেট ছাড়া বাইক বা স্কুটিতে জ্বালানি না দিতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। সেই নিয়মের জেরে প্রতিদিনই সামনে আসছে এমন একাধিক দৃশ্য। কোথাও অনুরোধ, কোথাও তর্ক, কোথাও হাসাহাসি চলছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে। কোথাও অপরিচিত দুই ব্যক্তির মধ্যে কয়েক মিনিটের জন্য হেলমেটের আদানপ্রদান হচ্ছে। পাম্প কর্মীরা নিয়ম মেনে বলছেন, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই। হেলমেট ছাড়া জ্বালানি দিলে পাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই কারও পরিচয়, অনুরোধ বা যুক্তি কোনোকিছুতেই নিয়মে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। 

    বাইকচালক সৌমজিৎ সাহা বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি একটু কঠোর লেগেছিল। কিন্তু নিয়মটা মানুষের ভালোর জন্যই। পাম্পে যদি হেলমেট ছাড়া তেলই না মেলে তা হলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেলমেট পরবেন। এতে দুর্ঘটনা কমবে। প্রাণহানিও কমবে।’ স্কুটারচালক অজয় ঘোষ বলেন, ‘পুলিশ রাস্তায় দাঁড়িয়ে জরিমানা করলেই সচেতনতা আসে না। পেট্রল পাম্প থেকেই যদি নিয়ম মানার ব্যবস্থা করা হয়, তা হলে হেলমেট পরা অভ্যাসে পরিণত হবে। আজ যেটা কড়াকড়ি মনে হচ্ছে কাল সেটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’ বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। বিভিন্ন থানা এলাকায় চলছে 

    বিশেষ চেকিং।’
  • Link to this news (বর্তমান)