'আশ্রয়হীন হওয়ার ভয়েই রাজ্যে সক্রিয় জঙ্গিরা', দাবি দিলীপের
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবেমাত্র ১১ সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের বয়স। অথচ এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী অনেকেই জঙ্গিদের টার্গেট! এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি,‘ নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাডু বা অসম থেকে গুজরাত সর্বত্র জঙ্গি দমন শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ভারত থেকে মধ্য ভারত পূর্ব ভারত যে মাওবাদী অধিকৃত অঞ্চল ছিল তার শেষ হয়েছে। শেষ ঘাঁটি ছিল পশ্চিমবঙ্গ। এখানে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা জঙ্গিদের লালন পালন করেছে এতোদিন। বাংলাদেশ থেকে ডেকে নিয়ে এসেছিল। থাকার জায়গা দিয়েছিল। আমি যে নিউটাউনে দাঁড়িয়ে আছি সেটা জঙ্গিদের ঘাঁটি ছিল একসময়। টেরারিস্ট থেকে গ্যাংস্টার এই শাপুর্জিতেই পাওয়া গিয়েছে। আর এদের মূল উপড়ে ফেলার কোন চেষ্টাই করা হয়নি। এখন এদের শেষ ঘাঁটি যখন উপড়ে ফেলা হচ্ছে, তখন রিভেঞ্জ তো একটা নেবেই।’ তার পরামর্শ, সরকারকে সাবধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের সব এজেন্সিকেও সতর্ক থাকতে হবে।পাশাপাশি, একটু সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকেও। দিলীপ ঘোষ বলেন, এরা শেষ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে পশ্চিমবঙ্গে। কারণ, রাজনৈতিক ছাতার তলাতেই এরা বেড়ে উঠেছে। সেই ছাতা এখন সরে গিয়েছে। তাই শেষ রিভেঞ্জ ওরা নেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে প্রশাসন সতর্ক আছে ।
সম্প্রতি রাজ্যের আর এক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, এগুলো আগে থেকেই চলত। কোন অভিযোগ নেওয়া হত না। এখন ঘটনাগুলো সামনে আসছে। পুলিশকে তার পরামর্শ, সব ব্যাপারে চোস্ত দুরস্ত হতে হবে। পাশপাশি তিনি বলেন, আগে পুলিশের কাজ ছিল টাকা তুলে টিএমসি নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পুলিশকে তাদের কাজে ফিরিয়ে আনতে গেলে সময় লাগবে। তাদের কাছে সোর্স নষ্ট হয়ে গেছে। এই ধরনের ঘটনা সোর্সের মাধ্যমে খবর আসে। কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা নিয়ে এখানকার পুলিশ কাজ করবে, আর এই সব সমস্যার সমাধান করবে।
কয়লা, বালি, পাথর থেকে মাটি বিভিন্ন দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতাদের। এবার এই তালিকায় নবতম সংযোজন রক্ত দুর্নীতি। আর এই নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু রক্ত নয় মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়েও ব্যবসা চলতো। কিছু লোক ধরা পড়েছে আগে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের লোকই জনপ্রতিনিধি হয়ে গেছে। নেতা মন্ত্রী এমএলএ এমপি হয়ে গেছে। অনেক তথ্য সামনে আসছে, সামনে আরো প্রকাশ পাবে।