NDA-র আগের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মঙ্গলবার ‘মঙ্গল মিলন’-এ দেখা গেল কলকাতা উত্তরের সাংসদকেও। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে প্রথম সারিতেই সুদীপ। এই বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমি দেশের অন্যতম বর্ষীয়ান সাংসদ। আজ প্রথমবার NDA-র বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি। খুবই খুশি।’ বৈঠকে NCPI-এর বাকি সাংসদরাও যোগ দেবেন বলেই জানান সুদীপ।
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গত সপ্তাহে নানা নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। NCPI-এ যোগ দিলেও ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ ফের কালীঘাট–তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় ফিরতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানান, ‘NCPI সাংসদরা ভীষণ ভাবে সঙ্ঘবদ্ধ।’
প্রত্যেক মঙ্গলবার করে NDA-এর শরিক দলের বৈঠক একটি রুটিন প্রক্রিয়া। NCPI যে হেতু NDA-র শরিক দলের অংশ, গত দু’সপ্তাহ ধরে তারাও অংশ নিচ্ছে। কিন্তু NCPI NDA-র শরিক হিসেবে গণ্য হলেও এখনও পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে মান্যতা পায়নি। লোকসভায় যখন বক্তব্য রাখেন, পরিচয় তৃণমূল সাংসদ হিসেবেই দেখানো হয়। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে NCPI-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের আইডেনটিটি নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁদের ভবিষ্যৎই বা কী, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ জুলাই ‘মঙ্গল মিলন’-এর বৈঠকে NCPI-র একাধিক সাংসদ ছিলেন না। ফলে এ দিন কতজন উপস্থিত হলেন, সে দিকেও নজর রয়েছে। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন এখন NDA শরিক নাকি বিজেপিতে মিশে যাবে NCPI? সেই প্রশ্নের জবাব কি আজ মিলবে? এরই মধ্যে মঙ্গলবার দিল্লিতে NCPI সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচিতে কোনও বদল না–হলে দিল্লির বঙ্গভবনে এই বৈঠক হতে পারে। থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদবও।