• ‘হাসিনাকে রাজনীতি করতে দেওয়া হোক’, মত তসলিমার, ফের সরব ‘ধর্মীয় রাজনীতি’র বিরুদ্ধে
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • শেখ হাসিনাকে আবার ফিরতে দেওয়া হোক বাংলাদেশে। তিনি যাতে আবার দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হোক, চাইছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সেই সঙ্গে লেখিকা সরব হলেন ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধেও। তাঁর মতে, রাজনীতি ধর্মভিত্তিক হলেই তা নারীবিদ্বেষী হয়ে উঠবে।

    মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার পাটিহাটিতে যান তসলিমা। সেখানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলবাদীদের প্রভাব নিয়ে সরব হন। তসলিমা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদীরা ওঁকে (বেগম রোকেয়াকে) কবর দেওয়ারও জায়গা দেয়নি। কারণ উনি নারীবাদী লেখিকা ছিলেন। উনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। নারীশিক্ষার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। সেই জন্য যাঁরা নারীবিদ্বেষী মুসলিম মৌলবাদী, তাঁরা তাঁকে জায়গা দেয়নি কবর দেওয়ার জন্য। রাতের অন্ধকারে এই পানিহাটিতে নিয়ে এসে তাঁকে কবর দেওয়া হয়। তাঁকে সম্মান এবং মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।’

    সেই সূত্রে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধিতা করেও তসলিমা বলেন, ‘ধর্মীয় রাজনীতি নারীবিদ্বেষী এবং সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে আমার আপত্তি থাকবে না। কারণ, দলটি শরিয়ত আইন ও নারীবিরোধী নীতির পক্ষে অবস্থান নেয়, যা সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকারের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’

    আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দলেরই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে বলে মতপ্রকাশ করে হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পক্ষেই কথা বলেন তসলিমা। তাঁর মতে, ‘শেখ হাসিনার দলের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। ওই দলটিকেও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক।’ নির্বাসিত লেখিকা জানান, তাঁরও বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু তাঁকে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না।

    এ দিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পক্ষে সওয়াল করেছেন তসলিমা। বলেন, ‘উপমহাদেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে ধর্ম নির্বিশেষে সকল নারী সমান অধিকার পাবেন। বাংলাদেশে হিন্দু নারীরাও ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের আওতায় থাকায় সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। আইন ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)