• মাঝআকাশে আচমকাই ৩০০ ফুট নীচে নামল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট, ছিটকে পড়ে আহত ১০ যাত্রী ও ক্রু মেম্বার
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • ফের বিপত্তি Air India-র বিমানে। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Flight Phuket to Delhi) উড়ান। জানা গিয়েছে, মাঝআকাশে প্রবল এয়ার টার্বুল্যান্স (Severe Turbulence)-এর মধ্যে পড়ে ফ্লাইটটি। সে সময়ে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। আকস্মিক এই ‘অল্টিটিউড ড্রপ’-এ ফ্লাইটের ভিতরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু ছিটকে পড়ে আহত হন। কমপক্ষে ১০ যাত্রী ও ৪ ক্রু মেম্বার ঘটনায় চোট পেয়েছেন বলে খবর। তবে শেষ পর্যন্ত পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ফ্লাইটটিকে নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI Airport) ল্যান্ড করান।

    এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ফুকেত থেকে দিল্লিগামী AI 2379-তে। ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত উচ্চতায় উড়ছিল। সেই সময়ে কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই প্রবল টার্বুল্যান্সের মধ্যে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একঝটকায় ফ্লাইটটি মাটি থেকে উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট কমিয়ে দেয়। আচমকা এই ধাক্কায় কেবিনের ভিতরে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন যাত্রীরা। ওভারহেড লাগেজ বিন খুলে কিছু ব্যাগ ও সামগ্রীও নীচে পড়ে যায়। যাঁরা সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বা সিটবেল্ট বাঁধেননি, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছিটকে পড়ে যান।

    ঘটনার সময়ে কয়েকজন কেবিন ক্রু যাত্রীদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আকস্মিক ধাক্কায় তাঁরাও আহত হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মাথা, কাঁধ ও ঘাড়ে চোট লেগেছে। দিল্লিতে অবতরণের পর চিকিৎসক দল বিমানে উঠে আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। কয়েকজনকে আরও পরীক্ষার জন্য বিমানবন্দর থেকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড়ানের সময়ে হঠাৎ তীব্র  এয়ার টার্বুল্যান্সের কারণে কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হন। ফ্লাইটটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করার পরে আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংস্থা ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে।

    অন্যদিকে, অবতরণের পরে বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা করা হয়। ঘটনাটি ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA-কে জানানো হয়েছে। টার্বুলেন্সের মাত্রা, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR)-এর তথ্য খতিয়ে দেখে ঘটনার কারণ তদন্ত করা হবে বলে সূত্রের খবর।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার টার্বুল্যান্স অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আকস্মিক ও প্রবল টার্বুল্যান্স সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন সেই সব যাত্রী, যাঁদের সিটবেল্ট বাঁধা থাকে না। তাই টেকঅফ বা ল্যান্ডিং ছাড়াও আসনে বসে থাকার সময়ে কোমরের সিটবেল্ট আলগাভাবে বাঁধা রাখার পরামর্শ দেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    উল্লেখযোগ্য ভাবে, মার্চ মাসে হায়দরাবাদ-ফুকেট এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস বিমানেও সমস্যা দেখা গিয়েছিল। বিমানটির নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটি হার্ড ল্যান্ডিং করে এবং ফুকেট বিমানবন্দরের রানওয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। যদিও সেই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি।

    ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI 2379 উড়ানে এই ঘটনা ঘটে।

    মাঝআকাশে বিমানটি প্রবল টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়, ফলে বিমানের ভিতরে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

    হ্যাঁ। সিটবেল্ট না বাঁধা থাকা কয়েকজন যাত্রী এবং কেবিন ক্রু আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, কাঁধ ও ঘাড়ে চোট লাগে।

    হ্যাঁ। পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটিকে নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (IGI Airport) অবতরণ করান।

    ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA (Directorate General of Civil Aviation) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

    যেসব যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা থাকে না, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রবল ঝাঁকুনিতে তাঁরা আসন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।

    বায়ুমণ্ডলের হঠাৎ পরিবর্তন, বজ্রঝড়, জেট স্ট্রিম বা Clear Air Turbulence (CAT)-এর কারণে বিমান টার্বুলেন্সের সম্মুখীন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানে বসে থাকলে সিটবেল্ট সাইন নিভে গেলেও কোমরে সিটবেল্ট বাঁধা রাখা উচিত, কারণ হঠাৎ টার্বুলেন্স যে কোনও সময় হতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)