নিটের প্রশ্নফাঁসের জল এত দূর গড়াবে, কল্পনাও করা যায়নি। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি নিয়ে আজকের পড়ুয়া বা জেন জি-র তীব্র আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এসবের নেপথ্যে নবগঠিত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা ছাত্রছাত্রীদের তারুণ্য আর অসম সাহসের ফসল। এই ‘ককরোচ’দের নেপথ্যে বিদেশি অনুদান বা সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের কতটা কী হাত আছে, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। তবে তারা যে এতদিনকার ‘সিস্টেম’কে জোর ধাক্কা দিয়েছে, তা স্পষ্ট। এবার তাই জেন জি-র মন বুঝতে আসরে আরএসএস। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) নিজে কথা বলবেন তরুণ পড়ুয়াদের সঙ্গে। আগামী ৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার মুম্বইতে বসবে এই কথাবার্তার আসর।
জেন জি বা ‘ককরোচ’দের আন্দোলনের নামে দিল্লিতে পড়ুয়ারা অনেক সময়েই মাত্রাছাড়া কার্যকলাপ করেছে। সিস্টেমের ত্রুটি উল্লেখ করে কটাক্ষ, প্রতিবাদী স্লোগানের মধ্যে দিয়ে কখনও ব্যক্তিগত ঘৃণার উদগীরণও হয়েছে। বেলাগাম আক্রমণ ধেয়ে গিয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দিকেও। তাতে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর বার্তা, শাস্তি দিয়ে নয়, তাদের কাছে টেনে বুঝিয়ে ভুল সংশোধন করাতে হবে।
সেই একই সুর প্রায় শোনা গেল সম্প্রতি সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের গলায়। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেছেন, “পড়ুয়াদের সঙ্গে সঠিক সমন্বয় স্থাপন করা উচিত আমাদের। আদেশ নয়, আলোচনা চাই। ওরা বিনা প্রশ্নে কিছু মেনে নেবে না। তাই আন্তরিক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ কথোপকথন আরও বাড়িয়ে তোলা দরকার।” এ প্রসঙ্গে ভাগবত আরও বলেছেন, “আমাদের প্রজন্ম ছিল বাধ্য। কমবয়সে আমরা সব কথা মেনে নিতে বাধ্য হতাম। এখন আর তা হবে না। আজকের নবপ্রজন্ম প্রশ্ন করে সব জেনে নেবে। আমাদেরও উচিত, ধৈর্য সহকারে সময় দিয়ে তাঁদের বিশদে সবটা জানানো।”
এরপরই সংঘের তরফে জানানো হয়, ৬ তারিখ মুম্বইয়ে মোহন ভাগবত নিজে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলবেন। হাজার দুয়েক ছাত্রছাত্রী তাতে অংশ নেবেন। কথা বলে তাঁদের মন বুঝতে চান ভাগবত। সেইমতো পড়ুয়াদের সমস্যার সমাধানে পথনির্দেশিকা স্থির করবে সংঘ। বিজেপির অন্দরের খবর, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা একটা বড় শিক্ষা দিয়েছে। এতদিনের সিস্টেম নিয়ে ছাত্রদের মনে পুঞ্জীভূত রাগ এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না, এই বোধ তৈরি হয়েছে। তাই হয়ত সংঘের এই পদক্ষেপ।