বাবরি ধ্বংস ছিল পূর্বপরিকল্পিত! বিতর্ককে সঙ্গী করেই চলে গেলেন প্রাক্তন বিচারপতি লিবেরহান
প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
চলে গেলেন প্রাক্তন বিচারপতি মনমোহন সিং লিবেরহান। মাদ্রাজ ও অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব সামলানো এই মানুষটির নেতৃত্বাধীন কমিশনই প্রথম জানিয়েছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংস ছিল পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রোহিত সুদ এই খবর জানিয়েছেন। রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে।
১৯৩৯ সালের নভেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন লিবেরহান। আইনি কেরিয়ার শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। সেই সময় তিনি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে প্র্যাকটিস করতেন। পরে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা বার কাউন্সিলের সদস্য হন ১৯৭০ সালে। একসময় হয়ে ওঠেন কাউন্সিলের সচিব। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত ওই দায়িত্ব সামলান তিনি। ১৯৮৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের বিচারপতি হন লিবেরহান। ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে মাদ্রাজ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তিনি। পরের বছর, ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বসেন অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদে। ২০০০ সালে অবসরগ্রহণের আগে পর্যন্ত সেই পদেই ছিলেন।
জনতার কাছে অবশ্য তাঁর প্রধান পরিচিতি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের তদন্তকারী কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই। তৎকালীন পিভি নরসিমহা রাওয়ের সরকার তাঁকে ওই দায়িত্ব দিয়েছিল। ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দশদিন পরে এক সদস্যের কমিশনের দায়িত্ব পান লিবেরহান। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই হয়তো কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়বে। কিন্তু বাস্তবে সময় লেগেছিল ১৭ বছর। প্রায় একশো সাক্ষীর বয়ান ও ৩১৫ শুনানির পর জমা পড়ে রিপোর্ট। ২০০৯ সালের ৩০ জুন। তখন প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন মনমোহন সিং। রিপোর্টে বলা হয় ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় দেড় লক্ষেরও বেশি করসেবক জড়ো হন কয়েকজন সিনিয়র বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে। যাঁদের মধ্যে ছিলেন এলকে আডবাণী, মুরলি মনোহর জোশীর মতো রাজনৈতিক নেতারা।
সবচেয়ে বড় কথা রিপোর্টে আডবাণী, অটলবিহারী বাজপেয়ী, তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-সহ অনেককেই দায়ী করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল করসেবকদের জমায়েত মোটেই ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ ছিল না। ছিল ‘পরিকল্পিত’। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, লখনউয়ের একটি বিশেষ সিবিআই আদালত অভিযুক্ত ৩২ জন জীবিত ব্যক্তির সবাইকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালত রায় দেয়, পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের কোনও প্রমাণ মেলেনি। অবসরের পর থেকে লিবেরহান জনজীবন থেকে দূরেই ছিলেন। এমনকী, কমিশনের রিপোর্ট নিয়েও তাঁকে সেভাবে কথা বলতে শোনা যায়নি। স্বাধীন ভারতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।