• আতঙ্কের অপর নাম ‘চান্দিপুরা’! ভাইরাসের কামড়ে ২২ শিশুর মৃত্যু গুজরাটে, দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
    প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • বর্ষার গুজরাটে মারণ ভাইরাসের প্রকোপ। ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছে সংক্রমণ। চান্দিপুরা নামের এই ভাইরাসের কবলে পড়ে এখনও পর্যন্ত ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গুজরাটে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ১৮৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে যার মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে মিলেছে এই ভাইরাস। যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বয়স ১৫ বছরের কম। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এই ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক বা টিকা নেই।

    সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রকোপ দেখা গিয়েছে গান্ধীনগর, সবরকান্থা-হিম্মতনগর, পাটন, রাজকোট এবং ভাবনগরে। এখানকার হাসপাতালগুলিতে ভর্তি রয়েছে বহু শিশু। এছাড়াও গুজরাটের বিভিন্ন অংশ থেকে সংক্রমণের খবর সামনে আসায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগের তরফে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শহর ও গ্রামগুলিতে ঘুরে ঘুরে কীটনাশক ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, জ্বর, বমি, খিঁচুনির মতো লক্ষ্মণ দেখা দিলে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার।

    কী এই চান্দিপুরা ভাইরাস?
    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র মতে, চান্দিপুরা মূলত ‘র‍্যাবডোভিরিডি’ পরিবারের সদস্য। এর প্রভাবে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোম বা ব্রেন ফিভার হয়। ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের চান্দিপুরাতে এই ভাইরাস নজরে আসে। পরে দেশের বহু জায়গার এর প্রকোপ দেখা যায়। মারণ এই ভাইরাসের বাহক মূলত প্রতঙ্গ। মূলত স্যান্ডফ্লাই বা বেলেমাছি, মশা এবং এঁটেল পোকার কামড় থেকেই জীবাণু মানুষের রক্তে মেশে। গুজরাটে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ‘ফ্লেবোটোমাস পাপা তাসি’ নামের এক বিশেষ প্রজাতির বেলেমাছি। নোংরা পরিবেশ, জমা জল ও যত্রতত্র আবর্জনা ছড়ালে এই মাছির প্রকোপ বাড়ে।

    রোগের লক্ষ্মণ
    ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক উপসর্গ ফ্লু-এর মতো। আক্রান্ত রোগীর লক্ষ্মণ হল, প্রবল জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, ক্লান্তি, গা হাত পা ব্যথা ও বমি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। শুরু হয় টানা কাশি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি। রোগী অচৈতন্য হয়ে কোমায় চলে যেতে পারে। বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তাদের জন্য এই ভাইরাস অত্যন্ত গুরুতর। আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, এই রোগের কোনও প্রতিষেধক নেই। ফলে দ্রুত রোগ নির্ণয় না হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিরোধই এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল চাবিকাঠি। বেলেমাছি বা মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ও মশা তাড়ানোর রিপেলেন্ট ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাচ্চাদের ফুল হাতা জামাকাপড় পরানো ও বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা উচিত সকলের। ভাইরাস থেকে বাড়ির শিশুকে নিরাপদ রাখতে এর কোনও বিকল্প নেই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)