কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল, মেসিকাণ্ড যেন না ফেরে! ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যে পালাবদলের পরই ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নতিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। সাইয়ের প্রকল্প গড়া থেকে ডুরান্ড কাপে পেপারলেস টিকিট-একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার বাংলার ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। আগামী দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে বাংলা ফুটবলের উন্নতি হবে বলে আশাবাদী ফেডারেশন সভাপতি।
পুজোর ঠিক আগেই ভারতে খেলতে আসছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচ খেলা হবে যুবভারতী স্টেডিয়ামে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ নিয়ে স্বভাবতই বিশেষ কিছু আয়োজন থাকতে চলেছে। ভারত বনাম ব্রাজিল (India vs Brazil) দ্বৈরথ নিয়ে আলোচনা করতেই সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক হয়। সেখানে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বৈঠকে উঠে এসেছে বাংলার ফুটবলের দুর্দশাও। ফেডারেশন সভাপতি বলেন, গত দশ বা পনেরো বছরে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে সেভাবে উন্নতি হয়নি। তবে এবার পরিকাঠামো গড়ে তুললে তার ফল দশ বছর পরে মিলতে পারে। বাংলার ছেলেমেয়েরা ভারতের জার্সি পরে খেলতে নামবে।
ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বতোভাবে সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফেডারেশনের কী কী প্রয়োজন, সেদিকে নজর রাখার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রীকে নির্দেশও দিয়েছেন। ব্রাজিল ম্যাচের যাবতীয় আয়োজন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি সহযোগিতা করবে, এমন আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজন পড়লে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করবেন। মঙ্গলবার স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যাবেন ফেডারেশন সভাপতি।
উল্লেখ্য, আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে খেলতে নামবে ভারত এবং ব্রাজিল। বর্তমানে ব্রাজিল বিশ্বর্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এর আগে ভারত কোনওদিন ক্রমতালিকায় এত উঁচুতে থাকা দলের বিরুদ্ধে খেলেনি। শোনা যাচ্ছে, প্রীতি ম্যাচ হলেও ব্রাজিলের প্রথম সারির তারকাদেরই দেখা যাবে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন নেইমার। ফলে তাঁর না খেলারই কথা। কিন্তু ৩ অক্টোবরের ম্যাচে সুনীল ছেত্রীকে যেন দেখা যায়, আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সেই ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে কোনও ত্রুটি রাখতে চায় না সরকার। এই যুবভারতীতেই মেসিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তিও রুখতে চায় সরকার।