পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। যারা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাখতেন, তাঁরাই এখন নানারকম দোষারোপ করে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছে শতযোজন। ফলে পরিষদীয় দলের রাশ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই নামে একটি অচেনা পার্টির সঙ্গী হয়েছেন এনডিকে সমর্থন জানাতে। ‘ছোট লালবাড়ি’ও হাতছাড়া হয়েছে মমতার। তৃণমূলের প্রতীক আদৌ তাঁর কাছে থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিগত কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, বিধানসভার পিএসির চেয়ারম্যান কাকে করা হবে তা নিয়ে। মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত-পন্থী বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এমন দু’জনকে পিএসির চেয়ারম্যান করেছিল যাঁরা খাতায় কলমে পদ্ম প্রতীকের বিধায়ক হলেও দলবদল করে তৃণমূলে নাম লেখায়। এঁরা হলেন প্রয়াত মুকুল রায় ও আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। দু’জনের ক্ষেত্রেই দলবদলের রেকর্ড ছিল। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির তরফে বারবার এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তৃণমূলের তরফে অস্বীকার করা হয়। বারবারই তৎকালীন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, সংসদীয় রীতি মেনেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। কার্যত সেই পথে হেঁটেই কানাইয়ালালকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হল। যদিও ঋতব্রত-পন্থীরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও খাতায় কলমে তাঁরা তৃণমূলেরই।
কী এই পিএসি? এর পুরো কথা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। বিধানসভার এই কমিটি রাজ্য সরকারের খরচ-খরচার উপর নজর রাখে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাধারণত কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় বিরোধী বিধায়কদের।