• গঙ্গার পর এবার ফুলহারের তাণ্ডব, সব হারানোর ভয়ে ঘুম হচ্ছে না রাতে! ভাঙন রোধে কীভাবে কাজ হচ্ছে?
    News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • গঙ্গার পর এবার ফুলহার নদীর ভাঙনের করাল গ্রাসে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। ভাঙন ঠেকাতে সেচ দফতরের অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হলেও, সেই কাজেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রশিদপুর এলাকার। সম্প্রতি ফুলহার নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে রশিদপুরে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিস্তীর্ণ চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা সেচ দফতর বাঁশের পরিকাঠামো তৈরি করে ইট ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় জলের তোড়ে বাঁশের কাঠামো ভেঙে ভেসে যাচ্ছে এবং ভাঙন রোধে কোনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। গ্রামবাসীদের দাবি, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় ৫০টি ইট ব্যবহার করার কথা, সেখানে মাত্র ২০টি ইট দিয়েই বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি কাজের নির্ধারিত সিডিউল দেখতে চাইলেও ঠিকাদার তা দেখাতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ভাঙন রোধের কাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জনি বলেন, “নদীর ভাঙন ক্রমশ গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। এই সময় নিম্নমানের অস্থায়ী কাজ করে কোনও লাভ হবে না। আমরা চাই নিয়ম মেনে টেকসই পদ্ধতিতে ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।”

    অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্য সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জয়েল মুর্মু বলেন, “যেখানে ভাঙন হচ্ছে সেখানে আপাতত অস্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুষ্ক মরশুমে স্থায়ী ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজ করা হবে। অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বর্তমানে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন রশিদপুরের বাসিন্দারা। প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও স্থায়ী ভাঙনরোধের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়েই এখন অপেক্ষায় গোটা এলাকা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)