• সাত বছরে ৩৬টি দেশ থেকে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ জন পলাতক অভিযুক্তকে, সাফল্যের খতিয়ান দিল কেন্দ্র
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • মাত্র সাত বছরে বিশ্বের ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন ফেরার অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল সম্পত্তিও। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে PIB-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কড়া আইন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার জোরেই ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ফেরার অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

    এক নজরে

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগে মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি ছিল। ফেরার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলাদা কোনও আইনও ছিল না। ২০০৪ থেকে ২০১৩-র মধ্যে গড়ে প্রতি বছরে মাত্র ৪ জন ফেরার অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। ২০১৮-য় ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স আইন লাগু হওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলায়। ২০১৯-এ NIA-র হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়। লাগু হয় ইউএপিএ (সংশোধনী) আইনও।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও মজবুত করতে ২০২৫-এ ভারতপোল নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। এখানে সিবিআই, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের ১,৪০০-রও বেশি সংস্থা যৌথ ভাবে কাজ করে। ফলে তথ্য আদান-প্রদানের সময় অনেকটাই কমেছে। তদন্ত ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও দ্রুত হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রের।

    আর্থিক দিক থেকেও একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৯ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ১৭ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

    পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়িয়েছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ‘অপারেশন ত্রিশূল’-এর আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিদেশে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপন করে থাকা বহু পলাতকের হদিশ মিলেছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় রেড কর্নার নোটিস জারির সংখ্যাও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে এমন নোটিস জারি হয়েছে।

    প্রশ্ন: কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী কত জন পলাতক অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে?

    উত্তর: ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।

    প্রশ্ন: ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স আইন কবে কার্যকর হয়?

    উত্তর: ২০১৮ সালে এই আইন কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক অপরাধ করে বিদেশে পালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।

    প্রশ্ন: ভারতপোল (BHARATPOL) কী?

    উত্তর: এটি কেন্দ্রের চালু করা একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সিবিআই, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের ১,৪০০-রও বেশি সংস্থা তথ্য আদান-প্রদান ও তদন্তে একসঙ্গে কাজ করে।

    প্রশ্ন: পিএমএলএ-র আওতায় কী পদক্ষেপের দাবি করেছে কেন্দ্র?

    উত্তর: ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ১৮,৭৬২ কোটি টাকার অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র।

    প্রশ্ন: অপারেশন ত্রিশূল কী?

    উত্তর: এটি পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার একটি বিশেষ অভিযান। সরকারের দাবি, স্যাটেলাইট তথ্য, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

    প্রশ্ন: রেড কর্নার নোটিস কী?

    উত্তর: এটি ইন্টারপোলের জারি করা একটি আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা, যার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলিকে কোনও পলাতক অভিযুক্তকে চিহ্নিত ও অস্থায়ীভাবে আটক করার অনুরোধ জানানো হয়। কেন্দ্রের দাবি, গত তিন বছরে ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে এমন নোটিস জারি হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)