আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জনসুরাজ পার্টির নেতা প্রশান্ত কিশোরের কাছে বিজেপি প্রার্থীর পরাজয়ের পর অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির। দলের একাংশ মনে করছেন বিহারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাওয়ায় বিজেপির শক্ত গড় হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুরে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে পদ্ম প্রার্থীকে।
তবে এই পরাজয় থেকে দ্রুত শিক্ষা নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভায় আসন্ন উপ নির্বাচনে লড়ার জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিল জেলা বিজেপি। আগামীকাল বুধবার এবং বৃহস্পতিবার রেজিনগর বিধানসভা এলাকার বিজেপির সমস্ত স্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির পদাধিকারীদের।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানান, ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন তাঁর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর দু'টি আসনেই বিজেপি প্রার্থী জয় লাভ করবে। সেই কারণে দলীয় স্তরে দু'টি বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে রেজিনগর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দলের রাজ্য সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা-কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন," নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী রেজিনগর আসনটি খালি হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের তিন মাস পার হয়ে গিয়েছে। "
প্রসঙ্গত, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা দু'টি আসনে আসন থেকে জয়লাভ করার পর রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিজেপি আশাবাদী আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই আসন উপনির্বাচন হবে এবং সেই মোতাবেক দলের তরফ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত রেজিনগর আসনটিকে এবার পদ্ম শিবির বিশেষভাবে পাখির চোখ করছে। এই আসনে জয়লাভ করলে তাদের পক্ষে সারা ভারতে প্রচার করা সম্ভব হবে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও এখন বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে।
মলয় মহাজন বলেন,"রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর জন্য যা যা করার দরকার দলের তরফ থেকে তার সবই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার সমস্ত সাংগঠনিক পদাধিকারী, সাংগঠনিক জেলার বিধায়ক এবং মুর্শিদাবাদ থেকে রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে রেজিনগর বিধানসভার জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।"
তিনি জানান," রেজিনগর বিধানসভায় চারটি 'মন্ডল' রয়েছে। এই মন্ডলের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখার জন্য বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার চার জন সাধারণ সম্পাদক এবং বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা থেকে নির্বাচিত বিজেপির চারজন বিধায়ককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত দুই মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং গার্গী দাস ঘোষকেও চারটি মন্ডলের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য থেকে নির্বাচনী কাজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবাল রাহাকে। "
প্রসঙ্গত ২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসনে হুমায়ুন কবীর জয়লাভ করার পর ওই আসনে পদত্যাগ করেন। ইতিমধ্যে হুমায়ুন ঘোষণা করেছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ , 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে রেজিনগর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মলয় মহজন জানান ,"বিধানসভা উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য জেলা বিজেপির তরফ থেকেও একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম সম্পাদক শাঁখারভ সরকার,জেলা সাংগঠনিক ইনচার্জ পার্থসারথি ঘোষ,প্রাক্তন ইনচার্জ অরূপ রায়, রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মহাদেব ঘোষ ,'কনভেনার' রমাপদ দাস। সাংগঠনিক এই দলটিও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে। দলের বিভিন্ন কমিটিকে মন্ডল কমিটি, শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ, শক্তি কেন্দ্র ইনচার্জ, বুথ সভাপতি সহ একদম নিচের তলা পর্যন্ত কথা বলে কোথাও কোনও খামতি আছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।"
যদিও আসন্ন রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে বিজেপির তরফ থেকে ওই আসনে কে প্রার্থী হবেন বা ২৬- এর বিধানসভা নির্বাচনে যিনি প্রার্থী ছিলেন (বাপন ঘোষ) তাঁকেই কি ফের একবার মনোনয়ন দেওয়া হবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। মলয় মহাজন বলেন," প্রার্থী ঠিক করার বিষয়টি আমার এক্তিয়ারভুক্ত নয়। গোটা বিষয়টি রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে ঠিক করা হবে।"