এক ঘরে পিসেমশাইয়ের ঝুলন্ত দেহ, অন্য ঘরে ১১ বছরের ভাইঝির নিথর দেহ...! নদিয়ায় চাঞ্চল্য
News18 বাংলা | ০৫ আগস্ট ২০২৬
: এক ঘরে পিসেমশাইয়ের ঝুলন্ত দেহ, অন্য ঘরে ১১ বছরের ভাইঝির নিথর দেহ। নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া কুঠিরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সন্তু সর্দার (৫৪)-এর বাড়িতেই থাকত তাঁর ভাইঝি সুমনা সর্দার (১১)। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা প্রতিদিনের মতো সোমবারও পিসেমশাইয়ের বাড়িতেই ছিল।
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা সন্তু সর্দারের ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই সময় সুমনার কোনও খোঁজ মিলছিল না। পাশের একটি ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশীরা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় ১১ বছরের নাবালিকার নিথর দেহ।
খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই দেহ উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে দুই জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসীর একাংশের অনুমান, নাবালিকাকে খুন করার পর সন্তু সর্দার আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে এই দাবি এখনও পুলিশের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে দুই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আদৌ কী ঘটেছিল তাই নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর মনে।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।