বিজয়-নীরব এখনও পলাতক! ৭ বছরে বিদেশ থেকে ক’জনকে ফেরাল ভারত? হিসেব দিল কেন্দ্র
প্রতিদিন | ০৫ আগস্ট ২০২৬
বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি থেকে মেহুল চোকসি, গত কয়েক বছরে এমনই কতগুলি নাম রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে মোদি সরকারকে। দেশে ‘অপরাধ’ করে বিদেশে গা-ঢাকা দেওয়া এই অপরাধীদের ফেরানোর প্রক্রিয়া অবশ্য জারি রয়েছে। এরইমাঝে সংসদে এক রিপোর্ট পেশ করল মোদি সরকার। যেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ৭ বছরে ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তুলেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে এই ২৭৪ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এই অপরাধীকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। শুধু তাই নয়, এই সময়কালে প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিভিত্তিক করতে কেন্দ্রীয় সরকার বড়সড় সংস্কারও করেছে। কেন্দ্রের মতে, পূর্বে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ছিল। যার জেরে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হত সরকারকে। অতীতের এক পরিসংখ্যান তুলে কেন্দ্র বলেছে, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মাত্র চারজন অপরাধীকে ভারতে ফেরানো সম্ভব হয়েছিল।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জনানো হয়েছে, পলাতক অপরাধীদের মোকাবিলায় গোয়েন্দা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তি-চালিত মডেল তৈরি করা হয়েছে। যা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করেছে। যে ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছে জঙ্গি, গ্যাংস্টার, অর্থনৈতিক অপরাধী, মাদক মামলায় অভিযুক্ত এবং হত্যা, ধর্ষণ ও পকসো (POCSO) মামলায় অভিযুক্তরা। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ২০১৪ সালের আগে প্রত্যর্পণ আইনে অনেক খামতি ছিল এবং মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি ছিল। আর্থিক অপরাধ করে পলানো অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কোনও পৃথক আইন ছিল না।
২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল, যেখানে অপরাধীর সংখ্যা ছিল ১১০। মন্ত্রক জানিয়েছে, আগের সরকারের তরফে পলাতকদের ফিরিয়ে আনার রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। অপরদিকে মোদি সরকার পলাতকদের প্রত্যর্পণকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। টাকা পাচার বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৭,৮৭৪ কোটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সফলভাবে উদ্ধার হয়েছে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা। অপরাধীদের ধরতে সিবিআই গ্লোবাল অপারেশন সেন্টার গঠন করেছে। যা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে রিয়েল টাইমে সমন্বয় করে। তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান সহজ করার জন্য সিবিআই প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থায় ইন্টারপোল লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করেছে।