আকাশপথে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁদের কাছে এয়ার টার্বুলেন্স নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখনও কখনও সেটাই সাধারণ যাত্রাকে বদলে দেয় দুঃস্বপ্নে। মঙ্গলবার ঠিক তেমনই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের যাত্রীরা। যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন। আতঙ্কে এখনও কাঁপছেন ইটালির ভিভিয়ানা। বলে দিলেন, ‘মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না।’
সব কিছু স্বাভাবিকই চলছিল। নির্ধারিত উচ্চতায় উড়ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ান। বিমানে ছিলেন ১৩৭ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য। কেউ সিনেমা দেখছিলেন, কেউ বই পড়ছিলেন, কেউ হয়তো একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছিলেন যাত্রার অবসরে। হঠাৎই সব ওলটপালট, ‘অল্টিটিউড ড্রপ’। মাঝআকাশে আচমকা কেঁপে ওঠে বিমান। এক ধাক্কায় নেমে যায় প্রায় ৩০০ ফুট। কেবিনের ভেতরে তৈরি হয় তীব্র বিশৃঙ্খলা। অনেকের সিট বেল্ট বাঁধা ছিল না। তাঁরা ছিটকে পড়েন। কারও সামনের সিটে মাথা ঠুকে যায়, কেউ আবার ধাক্কা খান অন্য কারও সঙ্গে।
সেই মুহূর্তটা এখনও ভুলতে পারছেন না ভিভিয়ানা। মা আর বোনের সঙ্গে দিল্লিতে আসছিলেন তিনি। ভিভিয়ানার কথায়, ‘বিমান ঠিকঠাকই উড়ছিল। আচমকা টার্বুলেন্স শুরু হলো। দেখলাম বোন যেন আসন থেকে ছিটকে উপরে উঠে গেল।’ তাঁর মায়ের মাথাতেও চোট লেগেছে। ভিভিয়ানার কথায়, ‘আমার ফোনটা পড়ে গেল। মায়ের মাথায় চোট লাগল। পিছনের সিটের কয়েক জনও আহত হয়েছেন।’ একজন যাত্রীর মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল বলেও জানান তিনি। ভিভিয়ানার কথায়, ‘সেই সময়ে মনে হচ্ছিল, সব শেষ হয়ে গেল, আর বাঁচব না।’ কানেও ঠিক মতো শুনতে পাচ্ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই কয়েক সেকেন্ড যেন কয়েক ঘণ্টার সমান মনে হচ্ছিল তাঁর।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন যাত্রী ও চার জন ক্রু মেম্বার চোট পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পাইলট। নিরাপদে ফ্লাইটকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করান তিনি। অবতরণের পর আহতদের স্ট্রেচারে করে বিমান থেকে বের করে আনা হয়। ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে। বিমানবন্দরের সেই দৃশ্যও ধরা পড়েছে ভিডিয়োতে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতাতেই (ক্রুজ পর্যায়ে) উড়ছিল। কিন্তু আচমকাই কয়েক সেকেন্ডের জন্য নীচে নেমে যায়। তবে পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন। এর পরে বিমান ফের স্বাভাবিক ভাবে ওড়ে। কোনও বিপদ ছাড়াই নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। এ দিন সন্ধ্যায় পাঁচ জন যাত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনস সংস্থা। বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ দল তাঁদের পাশে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ানে, যা ফুকেট (থাইল্যান্ড) থেকে দিল্লি আসছিল।
মাঝআকাশে আচমকা তীব্র টার্বুলেন্সের সময় বিমান কয়েক সেকেন্ডের জন্য উচ্চতা হারায়। সেই ঝাঁকুনিতে সিটবেল্ট না বাঁধা কয়েকজন যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং অনেকে আঘাত পান।
এয়ার ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন কেবিন ক্রু সদস্য রয়েছেন।
না। পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান।
ইতালির বাসিন্দা ভিভিয়ানা জানান, আচমকা টার্বুলেন্সে তাঁর বোন আসন থেকে ছিটকে ওঠেন, মায়ের মাথায় আঘাত লাগে। তাঁর কথায়, "মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না।"
বিমান সংস্থার দাবি, বিমানটি ক্রুজ পর্যায়ে থাকাকালীন সাময়িকভাবে উচ্চতা হারিয়েছিল। পরে পাইলট দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন এবং উড়ান নিরাপদে সম্পন্ন হয়। কারও গুরুতর আঘাতের খবর নেই।
এয়ার ইন্ডিয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজন যাত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁদের পাশে এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ দল রয়েছে।