পাবলিক সার্ভিস কমিশন-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পথে নেমেছেন ঝাড়খণ্ডের ছাত্রছাত্রীরা। শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। ককরোচ জনতা পার্টি তাঁদের সমর্থন জানানোর পরে আন্দোলন আরও গতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি বিতর্কে প্রথমবার মুখ খুললেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থীদের দাবিদাওয়াগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন শতাধিক চাকরিপ্রার্থী। ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্তভার CID-র হাতে তুলে দিয়েছেন হেমন্ত। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, সিআইডির হাতে তদন্তভার দিয়ে পুরো ঘটনাটা ‘ধামাচাপা’ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এর আগে CBI-এর পাশাপাশি ED তদন্তের দাবি তুলেছিলেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন জড়িত।
এ দিন আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে গোটা ঘটনার তদন্ত করা হোক। হাজারিবাগের চাকরিপ্রার্থী বিনয় মেহতা PTI-কে বলেন, ‘সিআইডি তদন্তে আমাদের কোনও আস্থা নেই।’ আগের JSSC-CGL পরীক্ষায় ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৩৫টির উত্তর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। তার মধ্যে ১২০টি প্রশ্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল। CID-র তদন্তেই এই সব তথ্য উঠে এসেছিল। পরীক্ষার্থীরা বহু প্রমাণও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ বিনয়ের।
গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রঘুবর দাসও। একই সঙ্গে হেমন্তকে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। জামশেদপুরে একটি সাংবাদিক সম্মেলেন থেকে রঘুবর জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে তিনি আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিক্ষোভরত ছাত্রদের জন্য পানীয় জল বা স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো ন্যূনতম ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন রঘুবর। তাঁর সতর্কবার্তা, সরকার যদি দ্রুত ছাত্রদের অভিযোগগুলির সমাধান না করে, তা হলে এই বিক্ষোভ বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিতে পারে। এই প্রসঙ্গে নিট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পরীক্ষা বাতিল করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। নতুন করে পরীক্ষাও নিয়েছিল।’ ঝাড়খণ্ড সরকারেরও এমন পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলন করছেন।
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে, যেখানে ২৯ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, চাকরিপ্রার্থীদের দাবিগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তাঁদের অভিযোগ, অতীতেও CID কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে আনলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই CID-র তদন্তে তাঁদের আস্থা নেই।
তাঁরা CBI ও ED-র তদন্তের পাশাপাশি রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, আন্দোলনস্থলে পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধারও যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি।