এই সময়, ঝাড়গ্রাম: পড়ুয়াদের সিংহভাগ আদিবাসী জনজাতি সম্প্রদায়ের। তাদের কথা ভেবে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছিল ছাত্রাবাস। তার পরে কেটে গিয়েছে ১১ বছর। আজও তা চালু করা যায়নি। অভিযোগ, ছাত্রাবাসের কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই দেওয়ালের কিছু অংশে ফাটল ধরেছে। সিঁড়িতে জমেছে শ্যাওলা। বর্ষায় গ্রামবাসীদের জামা-কাপড় শুকোনোর জায়গা ছাত্রাবাসের বারান্দা। ছাত্রাবাসের ছাদে ধান শুকোন গ্রামবাসীরা।
কেন ছাত্রাবাসটি চালু করতে পারছেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ! শৌচালয়, বিদ্যুৎ পরিষেবা, চারপাশের প্রাচীর তৈরি না করেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছাত্রাবাসটি হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিনপুর-১ ব্লকের রানারানি আদিবাসী হাইস্কুল। এখানে ৭৫ শতাংশ পড়ুয়াই আদিবাসী জনজাতি সম্প্রদায়ের। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২-'১৩ অর্থবর্ষে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ সাহায্যে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে রানারানি গ্রামে স্কুলের জায়গাতেই একটি ছাত্রাবাস তৈরি করা হয়েছিল।
পাঁচটি ঘর নিয়ে একতলা ভবনের ১০০ শয্যার ছাত্রাবাসটি তৈরির দু'বছরের মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা। অভিযোগ, শৌচালয়, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং প্রাচীরের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি সে সময়ে। এই পরিকাঠামোগুলি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাসটি চালু করতে পারেননি। গ্রামের বাসিন্দা পার্বতী বাস্কে বলেন, 'ছাত্রাবাসটি বহুদিন আগে তৈরি হলেও আজ পর্যন্ত চালু হলো না। দেওয়াল ফাটল ধরতে শুরু করেছে।'
বর্তমানে স্কুলে তিনটি শ্রেণি কক্ষ নিয়ে চলছে ছাত্রাবাস। ৭৫ জন তফসিলি জাতি-উপজাতির ছাত্ররা সেখানে থাকে। ছাত্রীদের আবাসটি স্কুল থেকে কিছুটা দূরে। তার নিজস্ব ভবন রয়েছে। ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে স্কুলে ৬৮৫ জন পড়ুয়া। প্রধান শিক্ষক সহ ২৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। বাংলা এবং সাঁওতালি, দু'টি মাধ্যমে পঠনপাঠন হয়। বেলপাহাড়ি, নয়াগ্রাম, জামবনি, রামগড়-সহ ভিন জেলারও বহু পড়ুয়া স্কুলের হস্টেলে থেকে প্রধানশিক্ষক পড়াশোনা করে। সাধুচরণ মাহাত বলেন, 'নতুন ছাত্রাবাসটি তৈরি হলেও পরিকাঠামো ঠিক না থাকায় চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই স্কুলের তিনটি ঘরকে ছাত্রাবাস করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি একাধিক বার জানানোও হয়েছে।'
ঝাড়গ্রামের বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) জগবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। চেষ্টা করব উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করে ছাত্রাবাসটি দ্রুত চালু করার।' ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, 'স্কুলে গিয়ে দেখা হবে ছাত্রাবাসটির কী অবস্থা। সেটি চালু করতে যা যা করণীয় তা করা হবে। ছাত্রাবাসটি তৈরির সময়ে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের কেউ ছাড় পাবে না।'