মৃত বকুল গাছের তলায় থাকা শূন্য বেদিতে দেখা গিয়েছে লাল চন্দনের পায়ের ছাপ। ওই পায়ের ছাপ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের বলে বিশ্বাস বাসিন্দাদের। আর এই বিশ্বাসেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে ওই গাছের তলায় ভিড় জমালেন এলাকার উৎসাহী বাসিন্দারা।
বকুলতলায় ভিড় জমেছে
কয়েক'শ' বছরের প্রাচীন বকুল গাছের মৃত্যু হয়েছে সম্প্রতি। তার পর থেকে শূন্যই পড়েছিল বকুল গাছের বাঁধানো বেদি। মঙ্গলবার সকালে সেই শূন্য বেদিতে লাল চন্দনের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায় বলে দাবি বাসিন্দাদের। এই ছাপ দেখেই অবাক হন এলাকার মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই পায়ের ছাপ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের বলে বিশ্বাস বাসিন্দাদের। এই বিশ্বাসে ভর করে সকাল থেকে বেদিকে ঘিরে জমতে শুরু করে উৎসাহী মানুষের ভিড়।
মাধবগঞ্জের বেদিতে কৃষ্ণের লীলা
মল্ল রাজাদের রাজধানী ছিল বিষ্ণুপুর। এই বিষ্ণুপুর জুড়ে মল্ল রাজাদের আমলে গড়ে ওঠে অনেক মন্দির। এর বেশির ভাগই কৃষ্ণের। আর, সেই বিষ্ণুপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবগঞ্জ এলাকায় রাধামদন গোপাল জিউ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় থাকা কয়েক'শ' বছরের প্রাচীন একটি বকুল গাছের সম্প্রতি মৃত্যু হয়। তার পর থেকে সেই বকুল গাছের বাঁধানো বেদি কার্যত শূন্যই পড়ে রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা স্বরূপ দে জানান, অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার সকালে ওই মন্দিরে নাম সংকীর্তন করতে আসা ভক্তরা সেই বেদিতে দেখতে পান বেশ কিছু লাল চন্দনের পায়ের ছাপ। বিষয়টি জানাজানি হতেই হইচই পড়ে যায় এলাকায়। স্থানীয়দের বিশ্বাস এত দিন গভীর রাতে শ্রীকৃষ্ণ সখীদের নিয়ে বকুল গাছে লীলা করতেন। বকুল গাছ না থাকায় গভীর রাতে শূন্য বেদিতেই শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং লীলা করেছেন। ওই লাল চন্দনের পায়ের ছাপ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণেরই বলেই বিশ্বাস স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা সেন, শাশ্বতী গড়াই-দের। তার পরেই সেখানে দলে দলে লোকজন ভিড় জমাতে শুরু করেন।
ভাটা পড়েনি ভক্তিতে
স্থানীয়দের দাবি, বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায় পায়ের ছাপগুলি। তবে তাঁদের বিশ্বাস এবং ভক্তিতে ভাটা পড়েনি। অনেকেই পুণ্য লাভের আশায় সেই বেদির ধুলো গায়ে মেখেছেন।
এক নজরে:
FAQ
কোথায় ভিড় জমান বাসিন্দারা?
বিষ্ণুপুর শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবগঞ্জ এলাকায় রাধামদন গোপাল জিউ মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভিড় করেন বাসিন্দারা।
কেন ভিড় জমে?
ওই মন্দির এলাকায় মৃত বকুল গাছে তলায় থাকা বেদি লাল চন্দনের পায়ের ছাপ দেখে ভিড় করেন তাঁরা।
কী বিশ্বাস মানুষের?
স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই পায়ের ছাপ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের।
কত ক্ষণ ওই ছাপ দেখা যায়?
বেলা বাড়ার সঙ্গে ওই ছাপ মিলিয়ে যায় বলেও দাবি বাসিন্দাদের।