• জল ঢালতে টাকা আদায়! সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ
    এই সময় | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বর মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে সরব পুণ্যার্থীরা। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভউগরে দিচ্ছেন অনেকে। অভিযোগ উঠছে, একদিকে যখন জল ঢালার জন্য সাধারণ পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তখন টাকা দিলেই খুব সহজেই মন্দিরে ঢোকা যাচ্ছে। টাকার বিনিময়ে জল ঢালার ব্যবস্থা করে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন দালালরাও। তাঁদের খপ্পরে পড়ে অনেক মানুষ প্রতারিতও হচ্ছেন।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পুণ্যার্থীদের এই হয়রানির জন্য দায়ী কে? সরকারি আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের তরফে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে না। স্পেশাল লাইনে ঢোকানোর জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলছেন। যেহেতু মন্দিরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশাসন কোনও ভাবেই নাক গলায় না, তাই এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের হাত-পা বাঁধা।

    রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ বারই প্রথম শ্রাবণী মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্রাবণী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, এই মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা হবে। তার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করছে সরকার। এ বারই প্রথম শ্রাবণী মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের উপরে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছু করার পরেও তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালার জন্য পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে শাসকদল।

    তারকেশ্বর মন্দিরে লাগামছাড়া ভিড় এবং পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া নিয়ে পুণ্যার্থীদের ক্ষোভের বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়) ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনই একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে একজনকে ক্যামেরার সামনে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'টাকা দিয়ে জল ঢালা হচ্ছে এখানে। যাঁদের পয়সা আছে, তাঁরাই শুধু যেতে পারবে! আমরা যেতে পারব না!' মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে এক ভক্তকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'জল ঢালা নিয়েও দুর্নীতি হচ্ছে। জোর করে স্পেশাল লাইনে ঢুকিয়ে দিয়ে টাকা চাওয়া হচ্ছে। এই টাকা যাচ্ছে কোথায়?' পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে স্পেশাল লাইনে ঢোকাতে না পারায় এক দালালকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। সেই ভিডিয়ো-ও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জল ঢালার স্পেশাল লাইন তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

    জল ঢালা নিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠায় গত সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান ও পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথা মেনে স্পেশাল লাইনে দাঁড়ানোর জন্য ভক্তদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশাসন কোনও ভাবেই জড়িত নয়। যাঁরা এই নিয়ে 'অপপ্রচার' করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সন্তু পান। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, 'এই বিষয়গুলি মন্দির কর্তৃপক্ষ দেখেন। এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।'

  • Link to this news (এই সময়)