পূর্বাভাসকে সত্যি করে বুধবার ভোর থেকেই মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজেছে তিলোত্তমা। ভোর ৫টা নাগাদ শহরবাসী যখন ঘুমের ঘোরে, তখন থেকেই শুরু হয় ঝমঝমে বৃষ্টি। শুধু কলকাতাই নয়, পার্শ্ববর্তী শহরতলি ও আশপাশের জেলাগুলোতেও বৃষ্টির দাপট ছিল সমান। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের (IMD) দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সারাদিন ধরেই দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে রাজ্যের একাধিক জেলা।
আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই সময়ের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিসের হিসেব অনুযায়ী, আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। মঙ্গলবার শহরে রেকর্ড হওয়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি কম) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি বেশি)। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শহরে মোট ১৪.১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চিত্রটাও বেশ থমথমে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশ কিছু জেলায় দুর্যোগের মাত্রা কিছুটা বেশি হতে পারে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার এক বা একাধিক স্থানে ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে। এই ছয়টি জেলার জন্য ইতোমধ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও খানিকটা বেশি থাকার সম্ভাবনা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি পার্বত্য জেলাগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—এই পাঁচ জেলায় এক বা দু’টি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) পূর্বাভাসের কারণে অরেঞ্জ অ্যালার্ট বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আজ রাজ্যজুড়েই চলবে বর্ষার জমজমাট দাপট।