রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে থেকে রাজ্যের দু বারেরে বিধায়ক৷ রাজ্য রাজনীতিতে স্বপ্নের মতো উত্থানের জন্য এতদিন চর্চায় ছিলেন চন্দনা বাউড়ি৷ বিধানসভায় দাপুটে ভূমিকার জন্য কয়েকদিন আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়কের প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও৷ এবার সেই চন্দনা বাউড়িই বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন৷ শালতোড়ার বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে রীতিমতো রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন আশা কর্মীরা৷ যার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও এবং এক আশা কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে৷
অভিযোগ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইকেওয়াইসি-র কাজ ঠিক মতো করছেন না বলে দাবি করে সম্প্রতি কয়েকজন আশা কর্মীকে ধমক দিতে দেখা যায় বিধায়ক চন্দনা বাউড়িকে৷ বাড়ি বাড়ি না গিয়ে মানুষকে নিজেদের বাড়িতে ডেকে আশা কর্মীরা সেই কাজ করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন শালতোড়ার বিধায়ক৷ সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়৷ ভিডিও-তে বিজেপি বিধায়ককে গাড়িতে বসে আশাকর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, আপনারা কি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন?
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই আশা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে৷ এরই মধ্যে সোমবার বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রুম্পা মণ্ডল নামে এক আশাকর্মীর মৃত্যু হয়৷ এতেই আগুনে ঘি পড়ে৷ আশাকর্মীরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত কাজের চাপে এবং বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির অপমানজনক মন্তব্যের জেরেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই আশা কর্মীর৷ দেহ আটকে রেখে বিক্ষোভও দেখান গঙ্গাজলঘাঁটির আশা কর্মীরা৷ পুলিশ দেহ উদ্ধার করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷
এর পর মঙ্গলবার বাঁকুড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চন্দনা বাউড়ির করা অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিবাদ করে রাস্তায় নামেন আশা কর্মীরা৷ তাঁদের দাবি, মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে চন্দনা বাউড়িকে৷ স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেও একই দাবি জানায় আশা কর্মীদের সংগঠন৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের বক্তব্য জানান বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও৷ বিতর্কের পরেও অবশ্য নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক৷ চন্দনা বাউড়ি বলেন, ‘তাঁরাও সরকারের লোক, আমরাও সরকারের লোক৷ আমি বলেছি, সরকার থেকে এই কাজের জন্য একদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ তার পরেও আপনি কেন সেই কাজ পারছেন না, তাহলে আপনি কি তাহলে চুরি করে চাকরি পেয়েছেন? এটা আমি কি খারাপ বলেছি? আর যে আশা কর্মী মারা গিয়েছেন তাঁর পরিবারের কেউ তো বলছেন না যে আমার মন্তব্যের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে৷ এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত৷’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি দু পক্ষের বক্তব্যই শুনেছেন৷ দু পক্ষই নিজেদের জায়গা থেকে ঠিক বলছেন বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটে গিয়েছে৷