• সন্ন্যাসযাত্রায় কি ‘বুড়ো সন্ন্যাসী’! রিকশা-চালক থেকে কর্পোরেট-কর্তা সকলের পথ গিয়ে মেলে ওল্ড মঙ্ক রামে
    এই সময় | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: দুই কবি, দুই বন্ধু সুনীল ও শক্তি একসঙ্গে শেষ বার মদ্যপান করেছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর দিন কয়েক আগে। ১৯৯৫–এর মার্চের এক দুপুরে, শান্তিনিকেতনে সুনীলের বাড়িতে। সুনীলের বর্ণনা থেকে জানা যায়, দু’জন আড়াই পেগ করে রাম পান করেছিলেন। রামের ব্র্যান্ড তিনি লেখেননি। তবে দু’জনেরই স্বজন–বান্ধবরা জানাচ্ছেন, দুই কবির খুবই পছন্দের ছিল ওল্ড মঙ্ক থ্রি এক্স রাম। সুরারসিকদের অনেকেরই মতে, গোত্র রাম হলেও, স্কচ হুইস্কির চেয়ে অনেক সস্তা হলেও ওল্ড মঙ্কের আভিজাত্য ও ইজ্জত আলাদা। রিকশা–চালক থেকে চিত্রশিল্পী, কবি থেকে কর্পোরেট–কর্তা, সকলের পথ গিয়ে মেলে ওল্ড মঙ্ক রামে। কিন্তু সকলের মাথায় যেন এ বার বাজ পড়ল।

    বোতলের গায়ে সাঁটা লেবেলে এক রকম দাবি করে বোতলের ভিতরে আসলে অন্য রকম জিনিস দেওয়া হচ্ছে, এ কথা জানিয়ে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ফ্যাসাই) ওই মদ এবং একাধিক পরিচিত অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের বেশ কিছু ভ্যারিয়েন্টের বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উৎকৃষ্ট জিনিস দেওয়ার দাবি করে তার তুলনায় নিম্নমানের উপকরণ দেওয়া হচ্ছে— ফ্যাসাইয়ের দাবি এমনই। অনেক সময়ে গ্রে মার্কেট কিংবা চোরাবাজারে মেলা, স্কটল্যান্ডে তৈরি হুইস্কির বোতলে ভরা থাকে ভারতে তৈরি হুইস্কি। এ রকম ভেজাল কারবারের অভিযোগ ফ্যাসাই এ বার আনল ভারতের কিছু উৎপাদকের উপরে।

    ওল্ড মঙ্ক থ্রি এক্স রাম ছাড়াও ফ্যাসাই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ম্যাকডাওয়েল নাম্বার ওয়ান রাম, ব্যাগপাইপার ডিলাক্স হুইস্কি, ওল্ড কাস্ক ডিলাক্স থ্রি এক্স রাম, সেন্ট্রাল প্রভিন্স হুইস্কি, ম্যাকডাওয়েল নাম্বার ওয়ান সেলিব্রেশন ম্যাচিওরড থ্রি এক্স রাম, অ্যান্টিকুইটি ব্লু হুইস্কি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ হুইস্কি-র বিক্রির উপরে। ওল্ড মঙ্ক রামের দ্য লেজেন্ড ও গোল্ড রিজ়ার্ভ ভ্যারিয়েন্ট বিক্রির উপরেও আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    ফ্যাসাইয়ের বক্তব্য, ওল্ড মঙ্ক-এর থ্রি এক্স রাম ভেরিয়েন্টের বোতলের গায়ে লেখা রয়েছে, ‘সাত বছর পুরোনো ব্লেন্ডেড’। এই দাবি, ফ্যাসাইয়ের মতে, বিভ্রান্তিকর বা মিসলিডিং। তাদের বক্তব্য, এই রাম তৈরির উপকরণের বেশির ভাগই হলো নিউট্রাল স্পিরিট অর্থাৎ যে স্পিরিট এজিং করানো হয়নি বা অনেকটা সময় ধরে মজানো হয়নি। ফ্যাসাইয়ের দাবি, গোটা বোতলে থাকা মোট উপাদানের মাত্র ৫ শতাংশ ম্যাচিওরড রাম স্পিরিট এবং তার ফলে বড়সড় নিয়মভঙ্গ হয়েছে। ফ্যাসাইয়ের আরও প্রশ্ন, খাঁটি রাম বা হুইস্কিতে কেন রাম বা হুইস্কির কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো হবে?

    যে সব মদের ভ্যারিয়েন্টের বিক্রির উপরে ফ্যাসাই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তার মধ্যে কয়েকটির প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিও ইন্ডিয়া। ফ্যাসাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়ে এ দিন ওই সংস্থাকে ই–মেল করা হয়। তবে রাত পর্যন্ত কোনও উত্তর তাদের তরফে মেলেনি। সূত্রের খবর, ডিয়াজিও ইন্ডিয়া–র সহযোগী সংস্থা ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেডের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ফ্যাসাইয়ের ওই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা মামলা করেছে বম্বে হাইকোর্টে। সেই সঙ্গে সংস্থার দাবি, তারা যা করার, আইন মেনেই করেছে।

    তবে ফ্যাসাইয়ের ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে। এ রাজ্যে সুরার এক ডিলারের কথায়, ‘ফ্যাসাইয়ের এ রকম নিষেধাজ্ঞা গোটা দেশেই কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সেটা আগে ফ্যাসাই থেকে আবগারি দপ্তরের কাছে আসবে, তার পরে আমাদের কাছে। তার আগে ওই সব মদ বিক্রিতে বাধা নেই।’

    কিন্তু মদ পাওয়া গেলেও ফ্যাসাইয়ের বক্তব্য জানার পরে সুরাপায়ীরা কি মজবেন ‘বুড়ো সন্ন্যাসী’–তে?

  • Link to this news (এই সময়)