• সন্দেহভাজন ৯ জঙ্গি ধৃত পাঞ্জাবে, যন্তর মন্তরে নিট বিক্ষোভের সময়ে হামলার ছক ছিল, জানাল পুলিশ
    এই সময় | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI মদতপুষ্ট ৯ সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেপ্তার। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে পাঞ্জাব পুলিশ। এর পরেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন সুখমন সিং। রাজাসাঁসি এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়েছে। সুখমন জেরায় কবুল করেছে, ককরোচ জনতা পার্টির যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্না চলছিল, সেই সময়ে সেখানে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। সেইমতো সুখমনরা দিল্লিতে গিয়ে রেইকিও করে আসে বলে দাবি পুলিশের।

    মঙ্গলবার পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, তারা আইএসআই-সমর্থিত দু’টি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি মডিউলের খোঁজ পেয়েছে। সীমান্তে সন্ত্রাস চালিয়ে অস্থিরতা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। ধৃতদের মধ্যে চার জন নাবালকও রয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদও। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতোই কাজ করছিল তারা। বিদেশ থেকে আইএসআই-র হ্যান্ডলাররা স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল। তরন তারন, অমৃতসর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।

    পাঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DGP) গৌরব যাদব বলেন, ‘অমৃতসর কমিশনারেট দু’টি আইএসআই-সমর্থিত ক্রস বর্ডার টেরর মডিউল ভেঙে দিয়েছে। তিনটি বেআইনি পিস্তল, চারটি পেট্রল বোমা এবং ৯টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে।’

    পুলিশের দাবি, প্রথম মডিউলটি অমৃতসরের রাজাসাঁসি এলাকা থেকে ধরা হয়। তাতেই ছিল সুখমন সিং ও আরও আরও তিন জন। যদিও তারা নাবালক। তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, এই মডিউলকে ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র আন্দোলনের সময়ে দিল্লির যন্তরমন্তরে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

    পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুখমন স্বীকার করেছে, সে পাকিস্তানের এক আইএসআই হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং তার নির্দেশেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ আরও জানায়, সুখমন ও তার সহযোগীরা দিল্লিতে গিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের এক সহযোগীর কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাওয়ার কথা থাকলেও, কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হামলা চালানো সম্ভব হয়নি এবং তারা পাঞ্জাবে ফিরে আসে।

    এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার ও জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি এই মডিউলের মূল পরিকল্পনাকারী। কলকাতা এসটিএফের হাতে ধরা পড়া আর একটি মডিউলেরও যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তারা শাহজাদ ভাট্টির সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তদের পাঞ্জাবের বিভিন্ন পুলিশ ভবন ও পুলিশ কর্মীদের ওপর নজরদারি (রেকি) করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।

    দ্বিতীয় মডিউলটির খোঁজ পাওয়া যায় গত মাসে রেললাইনের পাশে বসানো সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরার তদন্ত করতে গিয়ে। ওই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)