এই সময়: তাঁর কণ্ঠেই বাঙালির শারদ-সমারোহের সূচনা হয়। তাঁর জলদমন্ত্র উচ্চারণেই বাংলাজুড়ে আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে ওঠে আলোকমঞ্জরী। মঙ্গলবার ছিল বাঙালির মহালয়ার ভোরের মহিষাসুরমর্দিনীর প্রাণপুরুষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর জন্মদিন। তাঁর স্মৃতিতে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণের নামে হতে পারে।
জন্মদিনে শিল্পীর বাড়িতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এ কথা জানান পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, এই প্রস্তাব তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৌঁছে দেবেন। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের তরফে আরও দু’টি প্রস্তাব এসেছে। সেগুলি নিয়েও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আগের জমানায় তৃণমূল বীরেন্দ্রকৃষ্ণর বাড়িতে সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দিত না বলে অভিযোগ। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘তৃণমূল সব কিছু কুক্ষিগত করে রেখেছিল।’
মঙ্গলবার ছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণর ১২২ তম জন্মবার্ষিকী। এ দিন উত্তর কলকাতায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান অগ্নিমিত্রা। পুরমন্ত্রী জানান, শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনটি বীরেন্দ্রকৃষ্ণর নামে করা যায় কি না, তা বিবেচনা করার প্রস্তাব এসেছে তাঁর পরিবারের তরফে। এ ছাড়াও আকাশবাণী ভবন, যেখান থেকে মহিষাসুরসর্দিনী সম্প্রচার হতো, সেখানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘ওঁর জীবন আকাশবাণীর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল। সেটি তাঁর কর্মস্থল। আমিও চাই, ওখানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর আবক্ষ মূর্তি বসুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘বীরেন্দ্রকৃষ্ণর বাড়িটি হেরিটেজ ঘোষণা করার কথাও বলব মুখ্যমন্ত্রীকে।’
উত্তর কলকাতার রামধন মিত্র লেনে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর পৈতৃক ভিটে। আজীবন সেই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেছেন তিনি। তাঁর বাড়িতে আনাগোনা ছিল বহু গুণী মানুষের। সেই বাড়িটিকে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করার ভাবনাচিন্তার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। অন্য যে দু’টি প্রস্তাব তাঁর পরিবারের তরফে এসেছে (শ্যামবাজার স্টেশনের নামকরণ ও আকাশবাণীতে আবক্ষ মূর্তি), সেগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচ্য। তবে তাঁর বাড়ি হেরিটেজ ঘোষণা করা রাজ্যের হাতেই রয়েছে। এই বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।