লিলুয়ায় মধ্যরাতে চলল গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মাফিয়ার দৌরাত্ম্য ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ক্ষুব্ধ বর্মা কলোনি লিলুয়া। মঙ্গলবার গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠল হাওড়ার লিলুয়া থানার অন্তর্গত বর্মা কলোনি এলাকা। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন লোকনাথ মাঝি ওরফে ‘মালেঙ্গা’ নামে স্থানীয় এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
জানা গিয়েছে, রাতে অত্যন্ত কাছ থেকে লোকনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালান হয়। ঘটনার নেপথ্যে প্রসেনজিৎ ঘোষ নামে এক যুবকের নাম উঠে এসেছে। গুলি মেরেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছরয় লিলুয়া থানার পুলিশ। পলাতক প্রসেনজিতের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তদন্তকারীরা। এদিকে এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন বর্মা কলোনির বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে সন্ধ্যার পর এলাকায় বসত মদ ও গাঁজার আসর। জখম লোকনাথ নিজেই এই অসামাজিক আসরগুলির নেতৃত্ব দিত বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ। পথচলতি মহিলাদের প্রতি অশালীন মন্তব্য এবং মারামাকি মারধর ছিল নিত্যদিনের ঘটনা, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাটিকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেআইনি মাটি পাচারকারী ও সিন্ডিকেট মাফিয়ারা, যার জেরেই এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই আজ এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চলার সাহস পেয়েছে অপরাধীরা। ঘটনার পর থেকে এলাকা থমথমে। পুনরাবৃত্তি রুখতে বর্মা কলোনিতে অবিলম্বে স্থায়ী পুলিশ পিকটিং, সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানো এবং নিয়মিত নাইট পেট্রোলিংয়ের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরনো শত্রুতা বা অন্য কোনও অপরাধের সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।