মাতঙ্গিনী-ক্ষুদিরামের মেদিনীপুরে এই এক স্কুলেই কেঁপেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
News18 বাংলা | ০৫ আগস্ট ২০২৬
: সামনেই ভারতের স্বাধীনতা দিবস। দেশজুড়ে স্বাধীন ভারতের এই বিশেষ দিনটি উদযাপনের জোর প্রস্তুতি চলছে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে বিপ্লবের আঁতুড়ঘর মেদিনীপুরের কথা। অবিভক্ত মেদিনীপুরের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে স্বদেশি আন্দোলনের এক গৌরবময় ইতিহাস। ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, হেমচন্দ্র কানুনগো থেকে শুরু করে অনাথবন্ধু পাঁজার মতো অগণিত দেশপ্রেমিক এই মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ব্রিটিশদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে স্কুলজীবন থেকেই এখানকার তরুণ-তরুণীরা সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, হাসিমুখে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।
মেদিনীপুরের এই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে মেদিনীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী মেদিনীপুর টাউন স্কুল। ১৮৮৩ সালে ব্রিটিশ শাসনকালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম পীঠস্থান। সেই অগ্নিযুগে এই স্কুলের ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল এই বিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষার পরিবেশ যেমন খুব ভাল ছিল, তেমনই দেশাত্মবোধের শিক্ষাও দেওয়া হত সমানতালে।
ভারতের চরমপন্থী স্বাধীনতা আন্দোলনে এই স্কুলের ছাত্রদের যুগান্তকারী ভূমিকা কখনও ভোলার নয়। বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো, অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, রামকৃষ্ণ রায় এবং ব্রজকিশোর চক্রবর্তীর মতো প্রথম সারির বিপ্লবীরা এই বিদ্যালয়েরই গর্বিত প্রাক্তনী ছিলেন। স্কুলজীবনের প্রথাগত পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা এখান থেকেই দেশপ্রেমের মূল দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া এই দামাল ছেলেরা দেশের জন্য হাসিমুখে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও কখনও পিছপা হননি। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ আজও এই স্কুলের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা রয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সদর শহর মেদিনীপুরে অবস্থিত এই হেরিটেজ বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটে যেন আজও লেখা রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের সেই বীরগাঁথা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও মেদিনীপুর টাউন স্কুলের সেই গৌরবময় অতীত আজও অমলিন। এই বিদ্যালয়ের বিপ্লবী প্রাক্তনীরা শুধুমাত্র মেদিনীপুরের নয়, গোটা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে রয়েছেন। আগামী দিনেও এই ঐতিহ্যবাহী স্কুল ও তার স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিস্মরণীয় ইতিহাস আপামর ভারতবাসীর কাছে দেশপ্রেমের এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়েই থেকে যাবে।