কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করিকে ঘিরে তৈরি AI-নির্মিত ভুয়ো ভিডিয়ো ও ছবি (deepfake) নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল বম্বে হাইকোর্ট। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটকে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গড়করি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচারের জন্য তৈরি মানহানিকর ও মিথ্যা কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের কনটেন্ট আপলোড হলেও দ্রুত তা অপসারণের ব্যবস্থাও করতে হবে। মেটা, গুগল, ইউটিউব, এক্স-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতিন গড়করির নামে একাধিক AI ব্যবহার করে তৈরি (deepfake) ভিডিয়ো, অডিয়ো ও ছবি ভাইরাল হয়। ওই ভুয়ো কনটেন্টে দাবি করা হয়, তিনি নাকি E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন এবং কিছু গাড়ি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। গড়করির আইনজীবীরা আদালতে জানান, এই ভিডিয়ো ও ছবিগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। এগুলির লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
এ দিন বম্বে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, প্রাথমিক ভাবে আদালতের কাছে মনে হয়েছে, এই ভিডিয়ো ও ছবিগুলি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। তাই এগুলি দ্রুত সরিয়ে ফেলা জরুরি। বিচারপতি আরিফ এস. ডাক্তার বলেন,‘এই পোস্টগুলি জঘন্য (vile), অশ্লীল (obscene), গালিগালাজপূর্ণ (abusive) এবং মানহানিকর (defamatory)।’
আদালত আরও জানায়, প্রথম নজরেই স্পষ্ট যে এই ধরনের কনটেন্ট কোনও ব্যক্তির সম্মান ও সুনাম নষ্ট করার জন্য ছড়ানো হয়েছে। তাই এগুলি অনলাইনে রেখে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
গড়করির পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়, এই ভুয়ো ভিডিয়ো ও AI-তৈরি ছবি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। অনেক সাধারণ মানুষ এগুলিকে সত্যি বলে বিশ্বাস করছেন। ফলে শুধু তাঁর ভাবমূর্তিই নয়, সরকারের E20 জ্বালানি নীতি সম্পর্কেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ এই পোস্টগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যে, E20 জ্বালানি নীতির পিছনে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ রয়েছে গড়করির। অথচ ইথানল ব্লেন্ডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের নয়। গড়করি নিজেও আগে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, E20 কর্মসূচির চুক্তি বা বাস্তবায়নে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-নির্ভর ডিপফেক এবং ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে ভারতের আদালতের এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। এই রায়ে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে কোনও ব্যক্তির পরিচয় বিকৃত করা বা তাঁর নামে ভুয়ো বক্তব্য প্রচার করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে না। একই সঙ্গে এই ধরনের ভিডিয়ো বা পোস্টের ক্ষেত্রের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আবারও স্পষ্ট হলো।
আদালত Meta, Google, YouTube, X-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীতিন গড়করিকে নিয়ে তৈরি AI-নির্মিত ডিপফেক ভিডিয়ো, ছবি ও মানহানিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতিন গড়করির নামে AI-তৈরি ভুয়ো ভিডিয়ো, অডিয়ো ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে E20 জ্বালানি নীতি নিয়ে তাঁর নামে বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়।
বিচারপতি আরিফ এস. ডাক্তার মন্তব্য করেন, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি প্রাথমিকভাবে ‘জঘন্য-অশ্লীল...’ বলে মনে হয়েছে। তাই দ্রুত অপসারণ জরুরি।
আবেদনে বলা হয়, AI-তৈরি ভুয়ো কনটেন্ট তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং E20 জ্বালানি নীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-নির্ভর ডিপফেক ও ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে এটি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদালতের নির্দেশ, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।