• স্বামীকে ছেড়ে ধরেছিলেন প্রেমিকের হাত, ২ বছর পরে উদ্ধার মহিলার সুইকেসবন্দি দেহ
    এই সময় | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • সাত পাকের বন্ধন ছিন্ন করে প্রেমিকের হাত ধরেই সাজিয়েছিলেন নতুন সংসার। প্রেমের সেই কুঞ্জেই ট্রলিব্যাগবন্দি অবস্থায় মিলল তরুণীর লাশ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম ছোটি কুমারী। তিনি বিহারের নওয়াদা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। দু’বছর আগে স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। প্রেমিক ঋষভ কুমারের সঙ্গেই দমনে বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত ২ বছর ধরে থাকছিলেন। সেই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে ছোটি কুমারীর দেহ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই লিভ-ইন সঙ্গী ঋষভ কুমার পলাতক। প্রাথমিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও মৃতার পরিবারের দাবি, ছোটি কুমারীর বিয়ে হয়েছিল নওয়াদা জেলাতেই। কিন্তু বিবাহিত অবস্থাতেই তাঁর সঙ্গে ঋষভ কুমারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও প্রায় দু’বছর আগে তিনি ঋষভের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এর পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ ও নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কিন্তু ছোটি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে জানা যায়, দমনে একটি ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে থাকছিলেন ঋষভ ও ছোটি।

    পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গত কয়েক দিন ধরে ঋষভ ও ছোটীর সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল এবং প্রায়ই তাঁদের মধ্যে বচসা হতো। পরিবারের অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরেই ঋষভ তাঁকে খুন করেছে। হত্যার পরে দেহ সুযোগ বুঝে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ছোটীর দেহটি দুমড়ে-মুচড়ে ট্রলিব্যাগে ভরে রাখেন। কিন্তু দেহ লোপাটের উপযুক্ত সুযোগ না পেয়ে ট্রলিব্যাগটি ওখানে ফেলেই বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেন অভিযুক্ত।

    বন্ধ ঘর থেকে পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন বাড়ি মালিক। এর পরেই দমন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা ট্রলি ব্যাগটি উদ্ধার করে তা খুলতেই ভিতর থেকে ছোটীর পচাগলা দেহটি উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ এবং বিহারে ছোটীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ঋষভ কুমার নিখোঁজ। তাঁর সন্ধানে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা ভাড়া বাড়ি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য ফরেন্সিক তথ্য খতিয়ে দেখছেন। খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই প্রকৃত মোটিভ জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।

    মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পরেই মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। কী কারণে ছোটির এই পরিণতি তা ঋষভকে জেরা করলেই জানা যাবে বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

  • Link to this news (এই সময়)