বিরোধীদের হইহট্টগোলে বুধবারও মুলতুবি হয়েছে সংসদের অধিবেশন। এই অচলাবস্থা কাটাতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীপক্ষের সমর্থন চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাহুল পত্রপাঠ তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে খবর সংসদের একটি সূত্রে।
গত এপ্রিল মাসে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এই বিল পাশ করাতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। তার জন্য সংসদের উভয়কক্ষে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার , তা সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ছিল না। ফলে বিল পাশ হয়নি। সরকার পক্ষের লক্ষ্য, চলতি বাদল অধিবেশনেই তা পাশ করানো। যদিও বাদল অধিবেশনের কার্যতালিকায় তা নেই। সূত্রের খবর, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে পারলেই এই বিষয়টি নিয়ে এগোনো হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেক কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছে শাসক এনডিএ শিবির। অন্তত সংসদের নয়া সমীকরণ তেমনই বলছে। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিরোধীদেরও সমর্থন পেতে রিজিজু রাহুলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর।
কিন্তু সূত্রের দাবি, রাহুল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হননি। উল্টে দুই শর্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। রিজিজুকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগে রামমন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। আর গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে পুলিশের বিরুদ্ধে নিট আন্দোলনকারীদের মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দিতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত সংসদের কাজ স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারে না।
সংসদের সূত্রের খবর, রাহুলের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও দেখা করেন রিজিজু। যদিও তাঁদের মধ্যে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অচলাবস্থা কাটানোর কোনও উপায় মিলেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁরা এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কিছুই জানাননি।