আজকাল ওয়েবডেস্ক: কথায় আছে, পোশাকেই মানুষের পরিচয়। আলিপুরদুয়ারের এক ব্যবসায়ী পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বেশকিছু পোশাক তাঁর জাদুঘরে রাখবেন বলে মনস্থির করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এই সিপিআইএম নেতার সরলতা ও সততার কথা মনে রাখে, তাই ব্যবসায়ীর এই বিশেষ উদ্যোগ।
আলিপুরদুয়ার শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অরিন্দম ঘোষ, সম্প্রতি কলকাতায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে এসে তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের কাছ থেকে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি পোশাক সংগ্রহ করেছেন।
অরিন্দম ঘোষ আলিপুরদুয়ারের উপকণ্ঠে একটি বিনোদন পার্ক তৈরি করেছেন। যার মধ্যে একটি জাদুঘরও রয়েছে। সেখানে পুরনো দিনের রেডিও, গ্রামোফোন, ক্যামেরা, বাদ্যযন্ত্র ও আলোকসজ্জার সরঞ্জামের মতো নানা সামগ্রী প্রদর্শিত হয়। এবার সেই জাদুঘরেই ঠাঁই পাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বেশকিছু পোশাক।
অরিন্দম ঘোষ বলেন, "কয়েক মাস আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পোশাক জাদুঘরে প্রদর্শনের বিষয়টি আমার মাথায় আসে। কীভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহার করা পোশাক, জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা যায় তা নিয়ে আমি আমার এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। আমরা প্রবীণ সিপিএম নেতা রবিন দেবের সঙ্গেও কথা বলি। তিনি মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। মীরা দেবী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আমাকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান।"
গত ৩০ জুলাই অরিন্দম ঘোষ তাঁর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মীরা ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। সংগ্রহ করেন বুদ্ধদেব বাবুর জীবনের শেষ বছরগুলোতে ব্যবহার করা পোশাক। ব্যবসায়ীর কথায়, "তাঁর (মীরা ভট্টাচার্য) সরলতা আমাকে অবাক করেছে। তিনি নিজে আমাদের জন্য চা তৈরি করে খাইয়েছেন। এমন উচ্চ মর্যাদার একজন মানুষ যে এতটা বিনয়ী ও আন্তরিক হতে পারেন, তা ভাবাই যায় না। মীরা দেবীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁদের দু'জনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গিয়েছে।"
অরিন্দম ঘোষ জানান, তিনি জাদুঘরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সম্মানে একটি বিশেষ বিভাগ গড়ে তুলবেন। সেখানে পোশাকের পাশাপাশি তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের ছবিও প্রদর্শিত হবে।
ব্যবসায়ী বলেন, "দু'জন মানুষ আমার আদর্শ। তাঁরা হলেন শিল্পপতি রতন টাটা এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁদের সততা, সরলতা, নীতিবোধ, আদর্শ ও জীবনযাপন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রী সংগ্রহ করা শুরু করেছি এবং ভবিষ্যতে রতন টাটার স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্রও সংরক্ষণের আশা রাখি।"
অরিন্দমের স্বপ্ন, তাঁর জাদুঘর এমন একটি জায়গা হবে যেখানে দর্শনার্থীরা তাঁর 'আদর্শস্থানীয়' এই দুই ব্যক্তিত্বের জীবন ও মূল্যবোধ নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পাবেন।
আলিপুরদুয়ারের অরিন্দম মনে করেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বচ্ছ জনজীবন উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিবিদদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, "আমি চাই রাজনীতিতে আসার স্বপ্ন দেখা তরুণরা এই জাদুঘরের মাধ্যমে তাঁর মূল্যবোধ ও নিষ্ঠা সম্পর্কে জানুক।"
আলিপুরদুয়ার জেলায় একটি নার্সিং হোম ও রিসোর্টের মালিক অরিন্দম ঘোষ। এই ব্যবসায়ী জানান, রতন টাটার মূল্যবোধ তাঁকে নিজের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, "শ্রদ্ধাস্বরূপ, প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত দর্শনার্থীদের আমার বিনোদন পার্কে প্রবেশের জন্য কোনও ফি দিতে হয় না।"