এবার অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলারাও পাবেন মাতৃত্বকালীন ছুটি? যা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী...
আজ তক | ০৫ আগস্ট ২০২৬
এখন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলারাই সাধারণত মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। তাঁরা সেবতন ছুটি পেয়ে থাকেন। যার ফলে তাঁদের শিশুরা মাতৃদুগ্ধ খেতে পারেন। যদিও এই ক্ষেত্রের বাইরেও একটা বড় অংশের মহিলা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনও সামাজিক সুরক্ষাই নেই। এমনকী নেই কোনও মাতৃত্বকালীন ছুটি। তবে বর্তমানে রাজ্যের বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্য দফতর চাইছে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলারাও যাতে মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, সেটা নিশ্চিত করা। বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং রাজ্য়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এ দিন অংসগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলা কর্মীদের জন্য বিরাট ঘোষণা করেন শারদ্বত। তিনি বলেন, 'আমি আবেদন করব লেবার ডিপার্টমেন্টের কাছে, যাতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদেরও মেটারনিটি লিভ (মাতৃত্বকালীন ছুটি) দেওয়া হয়। তাদের সবেতন ছুটি দিতে হবে। যাতে তারা ব্রেস্টফিডিং চালু রাখতে পারেন।'
তিনি আরও জানান, অংসগঠিত ক্ষেত্রের মহিলাদের ক্ষেত্রে নিজের নিজের সন্তানকে ব্রেস্টফিডিং করানো কঠিন। তারা সেই কাজটা করতে গেলে জীবিকা হারাতে পারেন। তাই ব্রেস্ট ফিডিং করার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে যায়। এমতাবস্থায় অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলারাও যাতে মাতৃত্বকালীন সবেতন ছুটি পান, সেই দিকটা স্বাস্থ্য দফতর দেখবে বলে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রাইভেসির পক্ষে করলেন সওয়াল
এ দিন হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের প্রাইভেসি নিয়েও মতামত দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রত্যেক ওয়ার্ডে আমরা বলে দিয়েছি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার করার জন্য। একটা নয়, একাধিক কর্নার তৈরির কথা বলেছি। সিস্টার, নার্সিং স্টাফ এবং ডাক্তারদের এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানিয়েছি। আমি বলেছি, নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে যেন ব্রেস্ট ফিডিং করানো হয়।'
পাশাপাশি তিনি জানান, মহিলাদের ওয়ার্ড নিয়ে আগামিদিনে আরও কড়াকড়ি করবে সরকার। এক্ষেত্রে মহিলাদের ওয়ার্ডে পুরুষ সাফাইকর্মী, পুরুষ নার্স এবং পুরুষ ডাক্তাররা যাওয়ার ছাড়পত্র পায়। কিন্তু সবক্ষেত্রে যাতে প্রাইভেসির সচেতনতা থাকে, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি।
ব্রেস্টফিডিংয়ের ভাল দিক
১ থেকে ৭ অগাস্ট চলছে ব্রেস্ট ফিডিং উইক। তাই আজ ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ভাল দিকও তুলে ধরলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মায়ের দুধের মধ্যেই রয়েছে অ্যান্টিবডি। এই দুধ পান করলেই সুস্থ থাকবে শিশু। বাচ্চা জন্মের পর প্রথম দুধ পান খুবই জরুরি। এই পানীয় খেলেই শিশুদের সবথেকে বেশি লাভ হবে।