টুলু মণ্ডল কাণ্ডে এবার নয়া মোড়। এবার রাজ্য এসটিএফের রেডারে টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বীরভূমের পাড়ুইয়ে টুলু মণ্ডলের শ্বশুর নুর আলমের বাড়ি এবং দুই শ্যালক শেখ মিঠু এবং শেখ মিন্টুর বাড়িতে বুধবার হানা দেয় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ ও জেলা পুলিশের একটি দল। টানা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলেছে তল্লাশি। এলাকায় আরও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দড়ি দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় বাড়ির সামনের একটি অংশ। বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা নগদ, সোনা উদ্ধারের পর টুলুর অন্য আত্মীয়দের গতিবিধির উপর নজর রেখেছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রেই তাঁর শ্বশুরবাড়িতে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের দুই শ্যালক দীর্ঘদিন ধরে পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের ৩০ থেকে ৪০টি ডাম্পার পর্যন্ত রয়েছে। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল কিনা, আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র ছিল কিনা সেসব এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বুধবার এসটিএফের তল্লাশির সময় টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েকটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যাগগুলিতে টাকা বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখ্ন এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের আধিকারিকরা।
টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিন্টু শেখ ওরফে মহম্মদ সামসুল আলমের বাড়িতে প্রথমে তল্লাশি অভিযানে যান এসটিএফের সদস্যরা। তারপর আরও এক শ্যালক নুরুল ইসলামের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সূত্রে খবর, এসটিএফ যখন পৌঁছয় তখন বাড়িতে ছিলেন না মিন্টু। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও তাঁর খোঁজ মেলেনি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই তল্লাশি অভিযান চালায় এসটিএফ। পরিবারের অন্য সদস্যদের নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। অভিযানের পর শ্যালক নুরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, ‘আমাদের বাড়িতে তো কিছুই নেই। পাবে কোথা থেকে।’
তাছাড়া তদন্তকারীরা মনে করছেন, সরকারের টাকা ফাঁকি দিয়ে টুলু মণ্ডল তাঁর সম্পত্তি করেছেন। সবটাই সাধারণ মানুষের টাকা। সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর বাড়িতেও তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। টুলু কোথায় টাকা লুকিয়ে রেখেছেন সেটা জানার চেষ্টা চলছে। আর তাই তাঁর ঘনিষ্ঠ বা আত্মীয়দের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানান, এখনও পর্যন্ত টুলুর ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছে। এই তল্লাশি অভিযান যখন চলছিল তখন এদিন রক্ষাকবচের আর্জি জানালেন টুলু মণ্ডল। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর আইনজীবী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এজলাসে মামলা দায়ের করা হয়।